হেলথ টেলিভিশন চ্যানেলের প্রয়োজনীয়তা: বাংলাদেশ প্রেক্ষাপট

হেলথ টেলিভিশন চ্যানেলের প্রয়োজনীয়তা: বাংলাদেশ প্রেক্ষাপট

ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন

হেলথ টেলিভিশন চ্যানেলের প্রয়োজনীয়তা: বাংলাদেশ প্রেক্ষাপট

ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন
বিজ্ঞানের নব নব আবিষ্কার মানুষের জীবনধারায় যেমন আমূল পরিবর্তন এনে দিয়েছে, সেই সঙ্গে মানুষের ব্যবহারিক জীবনে এনেছে যুগান্তকারী পরিবর্তন। আর সেই বিজ্ঞানের অন্যতম একটি আবিষ্কার হলো টেলিভিশন, যা মানুষের জন্য প্রাত্যহিক  জীবনে অনেকটা আশীর্বাদস্বরূপ বলা যেতে পারে। ‘টেলি শব্দটি ল্যাটিন ‘tele’ শব্দ থেকে এসেছে, যার অর্থ দূরবর্তী আর ‘vision’ শব্দ ‘visio’ শব্দ থেকে উৎপন্ন।
বিজ্ঞানীদের বহু বছরের সাধনা ও গবেষণার পথ ধরে ১৯২৬ সালে স্কটিশ বিজ্ঞানী জন লোগি বেয়ার্ড টেলিভিশন আবিষ্কার করলেও টেলিভিশন শব্দটির উৎপত্তি হয়েছিল ১৯০৭ সালে। প্রথম টেলিভিশন উদ্ভাবন করার পর টেলিভিশনের উদ্ভাবক জন লোগি বেয়ার্ড এর  নাম  দিয়েছিলেন টেলিভাইজর এবং ২২ বছর পর টেলিভিশনের সংক্ষিপ্ত রূপ টিভি শব্দটি প্রথম ব্যবহার শুরু হয় ১৯৪৮ সালে। বিশ্বব্যাপী টেলিভিশনের প্রয়োজনীয়তার স্বীকৃতিস্বরূপ জাতিসংঘের সাধারণ সভায় ‘২১ নভেম্বর’  দিনটিকে বিশ্ব টেলিভিশন দিবস হিসেবে ঘোষণা করেছে জাতিসংঘ।

বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশে, ২৫ ডিসেম্বর ১৯৬৪ সাল থেকে সাদা-কালো সম্প্রচার শুরু হয়, যা ঢাকায় ডিআইটি ভবনে (বর্তমান রাজউক ভবন) স্থাপিত হয়েছিল। যদিও তখন বাংলাদেশ পাকিস্তানি শাসকদের অধীনে থাকায় এটি পাকিস্তান টেলিভিশন নামেই পরিচিত ছিল। প্রযুক্তির অভাবে তখন সব অনুষ্ঠান টেলিভিশনে লাইভ অর্থাৎ সরাসরি সম্প্রচার করা হতো এবং চ্যানেল ছিল মাত্র একটি, সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টা থেকে রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত চলতো। ঢাকা শহরের চারপাশে দশ মাইল পর্যন্ত টিভির সম্প্রচার সীমা হলেও এর বাইরে ময়মনসিংহ, কুমিল্লা থেকেও তা দেখা যেত। মুক্তিযুদ্ধের পর পরই সংস্থাটির নাম বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) নামকরণ করা হয় এবং এটির রাষ্ট্রায়ত্তকরণ করা হয়। তবে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সেই সত্তর দশকের প্রারম্ভেই বুঝেছিলেন শ্রুতি ও দৃশ্যের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা টেলিভিশন মিডিয়ার জগতে একটি বড় বিপ্লব ঘটাতে পারে।

১৯৭২ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর টেলিভিশনকে সরকারিভাবে অধিগ্রহণ করা হয়, যা বঙ্গবন্ধু অনেকের পরামর্শ উপেক্ষা করেই করেছিলেন। শুধু তা-ই নয়, বরং তিনি নাটোরে দেশের প্রথম টেলিভিশন উপকেন্দ্র স্থাপনের নির্দেশ দেন এবং ১৯৭৪ সালেই তা বাস্তবায়িত হয়ে দেশের উত্তরাঞ্চলে টেলিভিশন সম্প্রচার সম্প্রসারিত হয়। পরবর্তী সময়ে ১৯৭৫ সালে ডিআইটি ভবন ছেড়ে রামপুরায় টেলিভিশনের নিজস্ব ভবন তৈরি করা হয়। এখন সেটি রামপুরা টেলিভিশন সেন্টার নামে পরিচিত এবং ১৯৮০ সাল থেকে রঙিন সম্প্রচার করা শুরু করে বাংলাদেশ টেলিভিশন। সরকারি, বেসরকারি মিলিয়ে বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ৪৮টি টেলিভিশন চ্যানেল রয়েছে। এসব চ্যানেলে স্বাস্থ্য বিষয়ক স্বল্প সময়ের অনুষ্ঠান সম্প্রচার করা হলেও স্বাস্থ্য বিষয়ক ডেডিকেটেড কোনও চ্যানেল নেই।  

চিকিৎসা সেবা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর হাতের নাগালে পৌঁছে দেওয়ার জন্য বিশ্বের অনেক দেশেই এখন ব্যবহার হচ্ছে বিজ্ঞানের এই আধুনিক আবিষ্কারটি। উন্নত বিশ্বের দেশগুলোও সঠিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার জন্য একমাত্র মাধ্যম হিসেবে এখন টেলিভিশনকেই বেছে নিয়েছে। বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর অন্যতম যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্য ফ্লোরিডায় এখন চিকিৎসা সেবা রাষ্ট্রের প্রতিটি মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে ‘হেলথ চ্যানেল’ নামে একটি টেলিভিশন চ্যানেল রয়েছে, যেখানে প্রতিদিন স্বাস্থ্যসেবার বিভিন্ন বিষয়ের ওপর অনুষ্ঠানসূচি অনুযায়ী বিশেষজ্ঞদের নিয়ে সরাসরি অনুষ্ঠান সম্প্রচার করা হয়।

থাইল্যান্ডভিত্তিক টিভি চ্যানেল ‘স্মাইল থাইল্যান্ড’ স্বাস্থ্য সেবার বিভিন্ন বিষয়ে সরাসরি বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি অনুষ্ঠান সম্প্রচার করে থাকে। এমনকি আমাদের পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্র ভারতেও স্বাস্থ্যসেবার বিভিন্ন বিষয়ের ওপর সরাসরি অনুষ্ঠান সম্প্রচার করা হয় ‘ডি ডি নিউজ’ চ্যানেলের মাধ্যমে।  এর ফলে এসব রাষ্ট্রে একদম নিম্নবিত্ত মানুষের কাছেও পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে উন্নত চিকিৎসা সেবা ও পরামর্শ। নেপাল তার দেশের জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য যেটি প্রয়োজন সে বিষয়ে টেলিভিশনের মাধ্যমে ক্যাম্পেইন করে থাকে।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ পরিসংখ্যান বলছে, সারা দেশে এখন ১৩ হাজার ৪৪২টি কমিউনিটি ক্লিনিক চালু আছে। এসব ক্লিনিক থেকে মাসে গড়ে ৯৫ লাখ মানুষ বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা নেয়। যা বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার খুব নগণ্য হলেও সমাজের নিম্নবিত্তের অনেক মানুষ এখান থেকে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা নিয়ে থাকে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে আরও জানা যায়, আওয়ামী লীগ সরকার প্রথম কমিউনিটি ক্লিনিক বিষয়ে পরিকল্পনা গ্রহণ করে ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় আসার পর। প্রতি ৬ হাজার গ্রামীণ মানুষের জন্য একটি করে মোট ১৩ হাজার ৫০০ ক্লিনিক তৈরির পরিকল্পনা ছিল। ১৯৯৮ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত প্রায় ১০ হাজার ক্লিনিকের নির্মাণকাজ শেষ হয় এবং ৮ হাজার ক্লিনিক চালু হয়।

২০০১ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর কমিউনিটি ক্লিনিকের কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। কিন্তু আওয়ামী লীগ পুনরায় ২০০৮ সালে সরকার গঠন করার পর থেকে নিম্ন আয়ের মানুষের কথা বিবেচনা করে ১৯৯৬ সালে গৃহীত ১৩ হাজার ৫০০ কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মাণের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও নিম্ন আয়ের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকারের এ ধরনের উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে আশা করা যায়। যুক্তরাজ্যভিত্তিক জনস্বাস্থ্য ও চিকিৎসা সাময়িকী ল্যানসেটের প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্বাস্থ্য খাতে ১৮৮টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৩২, যেখানে প্রতিবেশী দুটি রাষ্ট্র ভারত ও পাকিস্তানের থেকেও ভালো অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। এছাড়াও বর্তমান সরকার তথ্য ও প্রযুক্তি ব্যবহারের বিকাশের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবায় একটি নতুন অধ্যায়ের সৃষ্টি করেছে। দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের ১৮টি হাসপাতালে উন্নত মানের টেলিমেডিসিন সেবা চালু আছে। শিগগিরই যুক্ত হচ্ছে আরও কয়েকটি হাসপাতাল। এই সেবা চালুর ফলে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের হাসপাতালে ভর্তি রোগীরা আধুনিক মানের টেলিমেডিসিন পদ্ধতিতে বিশেষায়িত হাসপাতালের চিকিৎসকদের পরামর্শ নিতে পারছেন।  এছাড়াও দেশের ২২টি ইউনিয়ন তথ্য ও সেবাকেন্দ্রেও টেলিমেডিসিন সেবা দেওয়া হচ্ছে স্কাইপে ভিডিও কনফারেন্সিং ব্যবহার করে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের এমআইএস বিভাগে বসে চিকিৎসকরা বিনামূল্যে প্রতি কর্মদিবসে এই সেবা দিচ্ছেন। ২০০৯-এ গণমুখী স্বাস্থ্যনীতির ধারায় জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে একবিংশ শতাব্দীর ঊষালগ্নে স্বাস্থ্যকে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার যে প্রচেষ্টা শুরু হয়, তা গত এক দশকে শতধারায় বিকশিত হয়ে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যকে নিয়ে গেছে অন্য এক উচ্চতায়; বিশ্বে তা এক মডেল, অনুশ্রেয় মানদণ্ড।

২০০৯ সালে Global Alliance for Vaccine And Immunization (GAVI) পুরস্কার পায় বাংলাদেশ। স্পেনের সিমাগো রিসার্চ গ্রুপ পরিচালিত এক জরিপে উঠে এসেছে বাংলাদেশের জন্য আশা জাগানিয়া এক তথ্য। যেখানে বলা হয়, বিশ্বের সকল মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ৬৪০তম হিসেবে স্থান পেয়েছে বিএসএমএমইউ।

বাংলাদেশে বর্তমানে ১০৭টি মেডিক্যাল কলেজ আছে, যার মধ্যে ৮টি বিভাগে সরকারিভাবে চালু রয়েছে মাত্র ৩৭টি। যার ফলে একদম দরিদ্র জনগোষ্ঠীর বেসরকারিভাবে সব সময় সঠিক চিকিৎসা সেবা নেওয়া সম্ভব হয় না। সেই সঙ্গে সরকারি চিকিৎসার স্বল্পতার কারণে পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়, দেশে স্বাস্থ্যের পেছনে যত খরচ হয় তার  ৬৭ শতাংশই মানুষ নিজের পকেট থেকে খরচ করছেন। আমাদের দেশে ২ হাজার ৫শ’ মানুষের জন্য একজন ডাক্তার রয়েছেন, যা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। তাছাড়া তথ্য ও প্রযুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশের চিকিৎসা সেবা মানুষের হাতের নাগালে আনলেও সেই সেবা এখনও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছাকাছি পৌঁছানো যায়নি। বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার ৭৭% গ্রামীণ  জনসংখ্যা, তাদের মধ্যে ৬০% মানুষই দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছে। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে স্মার্টফোন ক্রয়ের দুষ্প্রাপ্যতা এবং তা ব্যবহারের জ্ঞান না থাকা এবং সেই  সঙ্গে ইন্টারনেট নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠীর ক্রয়সীমার মধ্যে না থাকায় স্মার্টফোনের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা এখনও দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সঙ্গে পরিচিত হয়ে ওঠেনি। তাছাড়া আমাদের দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশই অশিক্ষিত। তাদের বিনোদনের একমাত্র মাধ্যম হলো টেলিভিশন। আমাদের দেশের কৃষক থেকে শুরু করে দিন আনে দিন খায় এমন শ্রেণির মানুষেরা প্রতিদিন কোথাও না কোথাও বসে বিশেষ করে চায়ের দোকানগুলোতে বসে দৈনিক টেলিভিশন দেখে থাকে। তাই বাংলাদেশে যদি একটি স্বাস্থ্য টেলিভিশন চ্যানেল করা যায় এবং সেই টেলিভিশন চ্যানেলে বিভিন্ন বিষয়ের ওপর বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিয়ে প্রতিদিন অনুসূচি অনুযায়ী সরাসরি স্বাস্থ্য প্রোগ্রাম করা যায় তবে স্বাস্থ্যসেবা সরাসরি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর হাতে পৌঁছানো যাবে। এই মাধ্যমটি  দ্বারা  আমাদের দেশের বিভিন্ন বিভাগের সেরা চিকিৎসকদের দিয়ে প্রতিদিন  কয়েকটি বিভাগের ওপর একটি অনুষ্ঠান সম্প্রচার করা যেতে পারে। এতে দেশে সকল শ্রেণির মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসেবার একটি সুষম মান ধরে রাখা সম্ভব হবে।

তাছাড়া বর্তমানে কোভিড-১৯ মহামারিতে যখন সাধারণ চিকিৎসা সেবা অনেকটাই ব্যাহত তখন একটি স্বাস্থ্য টেলিভিশন চ্যানেল কোভিড-১৯-এর মতো মহামারিতে চিকিৎসা সেবায় অগ্রণী ভূমিকা রাখবে বলে আশা যায়। এছাড়াও সেই টেলিভিশন চ্যানেলে যদি সরকারিভাবে কোন জায়গা থেকে সাধারণ মানুষ বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা নিতে পারবে এমন তথ্যাদি সম্প্রচার করা হয় তবে নিম্ন আয়ের মানুষ থেকে শুরু করে বিভিন্ন শ্রেণির মানুষেরা সরকারিভাবে চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করতে পারবে। সেই সঙ্গে এই টেলিভিশন চ্যানেলে আমাদের দেশের নার্স, গ্রাম্য ডাক্তার কিংবা ডাক্তারদের সহযোগীদের প্রতিদিন বিভিন্ন বিষয়ের ওপর ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। তাহলে চিকিৎসা সেবায় নিয়োজিত এসব ব্যক্তিও বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা যায়। কারণ, এসব পেশার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা অনেক সময়েই উপযুক্ত ট্রেনিংপ্রাপ্ত হন না। এদের উপযুক্ত করে গড়ে তুলতেও এই টেলিভিশন বিশেষ অবদান রাখতে পারে।

বর্তমান সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার যে দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ, তারই বাস্তবায়ন হিসেবে স্বাস্থ্য খাতেও ডিজিটালাইজেশন শুরু হয়েছে। বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে আমরা আজ সুস্থ জাতি হিসেবে অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন ঘটিয়ে জাতীয় প্রবৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছি। তারই ধারাবাহিকতায় একদিকে যেমন আমরা বিশ্বের ৫৭তম দেশ হিসেবে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১-এর মাধ্যমে মহাকাশে বাংলাদেশের অবস্থান নিশ্চিত করেছি, অন্যদিকে মাতৃমৃত্যুর হার, শিশুমৃত্যুর হার কমিয়ে অর্জন করেছি আন্তর্জাতিক সম্মান; পেয়েছি এমডিজি পুরস্কারসহ বহু আন্তর্জাতিক পুরস্কার। এ ছাড়া ২০১৪ সালের ১১ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী তনয়া সায়মা ওয়াজেদকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় আঞ্চলিক কার্যালয় অটিজম বিষয়ে অবদানের জন্য ‘এক্সেলেন্স ইন পাবলিক হেলথ’ পুরস্কার প্রদান করে। ২০১৭ সালেও তাকে ‘গুড উইল অ্যাম্বাসেডর ফর অটিজম’ মনোনয়ন প্রদান করে।

জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকীর এই বছরটিতে একটি স্বাস্থ্য টেলিভিশন চ্যানেল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর গৃহীত ২০৪১ সালের ভিশন বাস্তবায়নে জাতির পিতার সোনার বাংলাদেশ গড়ার পথে  স্বাস্থ্য খাতে আরও একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে বলে আশা করা যায় ।

লেখক: অধ্যাপক; তথ্যপ্রযুক্তিবিদ; সদস্য, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) এবং পরিচালক, বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেড (বিএসসিএল)

What's Your Reaction?

like
0
dislike
0
love
0
funny
0
angry
0
sad
0
wow
0