সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি
সংবাদ বিজ্ঞপ্তি করোনা ঝুঁকি নিয়ে সেবাপ্রদানকারী ব্যাংকারদের জন্য জীবনবীমা এবং চিকিৎসাবীমা প্রদান করতঃ তাদের জীবন অন্যান্য পেশাজীবীদের ন্যায় সুরক্ষিত করণ প্রসঙ্গেঃ করোনাভাইরাসের কারণে দেশের সম্ভাব্য অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মানবতার জননী, দেশরত্ন শেখ হাসিনার সুবিবেচনাপ্রসূত ৭২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ নিঃসন্দেহে অত্যন্ত সময়োচিত, বুদ্ধিদীপ্ত ও যুগান্তকারী। যা রাষ্ট্রযন্ত্রের সর্বস্তরের সুবিধাভোগীদের অর্থনৈতিক সুরক্ষা নিশ্চিত করবে। বিপুল অঙ্কের এই সহায়তা তাঁদের দোঁড় গোড়ায় পোঁছানোর দায়িত্ব দেশের বিভিন্ন তফসিলী ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহের উপর ন্যস্ত। সুনির্দিষ্ট করে বললে রাষ্ট্রায়ত্ব বাণিজ্যিক ব্যাংক সমূহ এক্ষেত্রে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করে থাকে যন্মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ব সর্ববৃহৎ বাণিজ্যিক ব্যাংক সোনালী ব্যাংক লিমিটেড অগ্রণী ভূমিকা পালন করে থাকে। এই দুর্যোগময় পরিস্থিতিতে- স্বাস্থ্যখাতে কর্মরত ডাক্তার-নার্সগণ রোগীদের (স্বাস্থ্য) পরিসেবায় ব্যস্ত; পুলিশ, র‌্যাব, সেনাবাহিনীসহ অন্যান্য বাহিনী জনসাধারণের মধ্যে করোনা প্রতিরোধমূলক সচেতনতা তৈরী, সামাজিক দুরত্ব সৃষ্টি এবং সর্বোপরি রাষ্ট্রীয় আইন শৃঙ্খলা রক্ষার্থে ব্যস্ত! ঠিক তেমনিভাবে দেশের কয়েক হাজার ব্যাংক শাখার মাধ্যমে প্রায় ৫ লক্ষাধিক ব্যাংকারগণ (নির্বাহী/ কর্মকর্তা ও কর্মচারীসহ) তাঁদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন রাষ্ট্রীয় অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রাকে অব্যাহত রাখতে। বর্তমান পরিস্থিতিতে আমদেরকে যুদ্ধ করতে হচ্ছে এক অদৃশ্য শত্রুর বিরুদ্ধে। এই মুহুর্তে যখন দেশে করোনার কমিউনিটি ট্রান্সমিশন (ক্লাস্টার ভিত্তিক) শুরু হয়েগেছে বলে বিশেষজ্ঞগণ যখন আশঙ্কা প্রকাশ করছেন তখন ডাক্তারদের ন্যয় ব্যাংকে কর্মরতদেরকেও কিন্তু সরাসরি COVID-19 আক্রান্ত রোগীদের সংস্পর্শে আসবার সম্ভাবনা/ঝুঁকি তৈরী হয়েছে যা সহজেই অনুমেয়। ইতোমধ্যেই সরকার প্রধান তাঁর বক্তব্যে চিকিৎসা সেবায় নিয়োজিত; আইন শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী সহ কতিপয় পেশাজীবিদের কর্মকালীন ঝুঁকি বিবেচনায় এনে তাঁর জন্য চিকিৎসা ভাতা (৫-১০ লক্ষ টাকা) ও মৃত্যু ঝুঁকিতে (পূর্বোক্ত পরিমাণের ১০গুন) জীবনবীমা স্বরূপ এককালীন প্রদানের প্রতিশ্রুতি প্রদান করেছেন যা তাদেরকে আরোও নিবেদিত ভাবে, নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালনে উদ্বুধ্ব করবে, অনুপ্রাণিত করবে। চিকিৎসা সেবা প্রদানকারীদের ন্যায় ব্যাংকারগণও কিন্তু করোনা আক্রান্ত রেগীদের (লক্ষণ প্রকাশ না পাওয়া) সরাসরি সংস্পর্শে আসার তীব্র ঝুঁকি নিয়েই পেশাগত দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যেই এসেছে, রাষ্ট্রের প্রতিটি প্রাণকে রক্ষা করা রাষ্ট্রের জন্য সর্বোচ্চ গুরুত্বপূর্ণ এবং একটি প্রাণহানিও কাম্য নয়। জনগণের প্রাণ রক্ষার্থে তাই দেশে অঘোষিত লকডাউন/কারফিউয়ের মতো জরুরী অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে, যা অত্যন্ত সময়োপযোগী ও সর্ব মহলে প্রসংশিত হয়েছে।
বিগত ৯ এপ্রিল, ২০২০ তারিখে আপনার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে একটি পরিপত্র প্রকাশ করা হয়েছে যেখানে জরুরী সেবা প্রদানকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও তদ সংশ্লিস্ট ব্যক্তিদের চলাচল সুগম করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। দুঃখজনক হলেও সত্য যে, রাষ্ট্রের অর্থনীতিকে সচল রাখতে সেবাদানকারী রাষ্ট্র মালিকানাধীন ব্যাংক বা বেসরকারি ব্যাংক সমূহের যে বিপুল বিশাল কর্মীবাহিনী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেবা প্রদান করে যাচ্ছেন উক্ত পরিপত্রের মধ্যে তাদের চলাচল সুগম করতে কোন নির্দেশনা প্রদান করা হয়নি যা দুঃখজনক এবং তাদের কর্মস্থলে গমনাগমনেও নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরী হয়েছে। ২৬ মার্চ, ২০২০ হতে সাধারণ ছুটি ঘোষণ করা হয় যা এখনো চলমান রয়েছে কিন্তু দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখতে সরকারের নির্দেশনা মোতাবেক কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গাইডলাইন অনুযায়ী রাষ্ট্রীয় তফসিলি ব্যাংকসমূহ সীমিত আকারে ব্যাংকিং সেবা প্রদান করে যাচ্ছেন। সরকারী নির্দেশনা মোতাবেক সকলকে বাধ্যতামূলকভাবে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করার কথা বলা হলেও সোনালী ব্যাংকের মতো বৃহৎ ব্যাংকগুলোতে উপচে পড়ছে গ্রাহকের ভিড়। বিশেষজ্ঞদের মতে এখন ব্যাংকগুলো হয়ে উঠছে করোনা সূতিকাগার। এমন প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও ব্যাংকের কর্মী বাহিনী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নিরবিচ্ছিন্ন সেবা প্রদান করে যাচ্ছেন। এমতাবস্থায়, ব্যাংকারদের জীবনের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা প্রদানপূর্বক রাষ্ট্রীয় অর্থনীতিকে অব্যাহতভাবে গতিশীল রাখতে সোনালী ব্যাংক বঙ্গবন্ধু পরিষদের পক্ষ থেকে নিম্নোক্ত দাবীসমূহ পেশ করা হলো- 1. অনতিবিলম্বে ৯ এপ্রিল, ২০২০ তারিখের পরিপত্রটি আংশিক পরিবর্তন পূর্বক অন্যান্য সেবাদানকারী সংস্থার ন্যায় ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে জরুরী পরিষেবার অন্তর্ভুক্ত করতঃ এই দুর্যোগকালীন সময়ে ব্যাংকারদেরকেও প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত আর্থিক প্রণোদনার আওতায় সকল সুবিধা প্রদান। 2. ব্যাংকারদের কর্মস্থলে যাতায়াত সুগম করণ বা কর্মস্থলের নিকটবর্তী কোথাও সাময়িক সময়ের জন্য আবাসনের ব্যবস্থা করা। প্রয়োজনে শাখায় আগত গ্রাহকদের মধ্যে নিরাপদ সামাজিক দুরত্ব ও শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে সাময়িক সময়ের জন্য শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদেরকে নিয়োজিত করা। 3. সরকারী বা ব্যাংকের নিজস্ব উদ্যেগে কর্মীগণকে অফিসে আনা/নেওয়ার ব্যবস্থাকরণ। 4. শুধুমাত্র নগদ উত্তোলন (জমা প্রদান নিরুৎসাহিতকরণ) ও বৈদেশিক রেমিটেন্স আরোহন এবং অতি জরুরী বা জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ কারণে বৈদেশিক বাণিজ্য চালু রাখা। 5. একই হিসাবে মাসে একাধিক লেনদেন স্থগিত করা। 6. রাষ্ট্রায়ত্ব ব্যাংক সমূহে দ্রুততম সময়ে নিজস্ব ওয়ালেট বা অ্যাপ ভিত্তিক ব্যাংকিং, মোবাইল ব্যাংকিং এবং ইন্টারনেট ব্যাংকিং চালু করা। 7. করোনা ঝুঁকি কমাতে এটিএম কার্ডধারী গ্রাহকদেরকে চেকের মাধ্যমে লেনদেন রহিত/ নিরুৎসাহিত করা। 8. লকডাউন করা এলাকায় শাখাগুলোর কার্যক্রম বন্ধ রাখা। 9. জাতীয় দুর্যোগের এই সময়ে অর্থনীতিকে সম্পূর্ণরূপে স্থবির করে দেয়া অসম্ভব। সেক্ষেত্রে ব্যাংকের কর্মঘন্টা সীমিত করার পাশাপাশি সাপ্তাহিক কর্মদিবসের সংখ্যা কমিয়ে এক বা দুই দিনে নির্ধারণ করা। 10. যারা এই জাতীয় দুর্যোগ এ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন সে সমস্ত ব্যাংকারদের জন্য উল্লেখযোগ্য এবং সন্তোষজনক ঝুঁকি ভাতা/ জীবন বীমার ব্যাবস্থাকরণ 11. দায়িত্ব পালনকারী কোন ব্যাংক কর্মকর্তা ভাইরাসে আক্রান্ত হলে ব্যাংকের নিজস্ব অর্থায়নে তার সু-চিকিৎসার ব্যবস্থা করা; এবং কোন ব্যাংক কর্মকর্তা/কর্মী করনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করলে মৃতের পরিবারের দায়িত্ব বহন এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে পরিবারের কোন একজনকে চাকুরী প্রদান। 12. ব্যাংকের লেনদেনের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে প্রয়োজনীয় সীমিতসংখ্যক লোকবল রোস্টার ডিউটির মাধ্যমে হাজির থাকার নির্দেশ। সেক্ষেত্রে কর্মীদেরকে তিনটি গ্রুপে ভাগ করে তিন সপ্তাহে তিনটি গ্রুপের মাধ্যমে সেবা প্রদান। এতে এক একটি গ্রুপ ১৪ দিন পর পর কাজ করার সুযোগ পাবে এবং এক সপ্তাহ কাজ করার পর Automatically ১৪ দিনের হোম কোয়ারেন্টাইন পরিপালন করা সহজতর হবে। সেক্ষেত্রে যাতায়াত ও অন্যান্য ভাতা বৃদ্ধি করা। আমাদের বিশ্বাস রাষ্ট্রীয় (অর্থনৈতিক) সুরক্ষা বলয়ের আওতাভুক্ত হয়ে ব্যাংকারগণ অপেক্ষাকৃত নিশ্চিন্তে ও নিষ্ঠার সাথে তাঁদের উপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে সমর্থ হবেন। অনতিবিলম্বে ব্যাংকারদের সুরক্ষার্থে উপরোক্ত দাবীসমূহ মেনে নেওয়া হোক।
এস. এম লুৎফর রহমান, সাধারণ সম্পাদক সোনালী ব্যাংক বঙ্গবন্ধু পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটি।

What's Your Reaction?

like
0
dislike
0
love
0
funny
0
angry
0
sad
0
wow
0