শেখ মুজিবের ‘রাষ্ট্রদ্রোহের’ প্রকৃতি

শেখ মুজিবের ‘রাষ্ট্রদ্রোহের’ প্রকৃতি

দ্য সানডে টাইমস, জাম্বিয়া

২২ আগস্ট ১৯৭১ তারিখের প্রতিবেদন

মুজিবের রাষ্ট্রদ্রোহের প্রকৃতি?

১১ আগস্ট শেখ মুজিবুর রহমানের গোপন বিচার শুরু হয়েছে। তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ আনা হয়েছেÑ পাকিস্তানের শুরু থেকেই রাষ্ট্রদ্রোহের ধরন ও ইতিহাস বোঝা প্রয়োজন। ১৯৬৬ সালে যখন মুজিবুর স্বায়ত্তশাসনের জন্য ছয় দফা ঘোষণা করলেন তখনই তাকে রাষ্ট্রদ্রোহী হিসেবে চিহ্নিত করে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় জড়ানো হলো। ছয় দফার ওপর ভিত্তি করে গত নির্বাচনে তার নিরঙ্কুশ বিজয় ঘটল। সরকারের সমর্থনপুষ্ট সাক্ষীরা তার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে অস্বীকার করলেন, তাদের উদ্ভাবিত অভিযোগ এক সময় ঝেড়ে ফেলতে হয়। স্বায়ত্তশাসনের দাবি জানানো নতুন কিছু নয়। এমনকি পাকিস্তানের ভিত্তি হিসেবে খ্যাত লাহোর প্রস্তাব, যার খসড়া জিন্নাহ নিজেই প্রণয়ন করেছিলেন তাতে বলা হয়েছে, ভারতকে এমনভাবে ভাগ করতে হবে পূর্বে ও উত্তর-পশ্চিমে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশে একের অধিক স্বাধীন রাষ্ট্র গঠিত হবে যার ইউনিটগুলো হবে স্ব-শাসিত ও স্বায়ত্তশাসিত। কিন্তু পূর্বাঞ্চলীয় ইউনিট রাষ্ট্র হয়ে উঠতে পারেনি। পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকে পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকরা পূর্বাঞ্চলে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রাধান্য বিস্তার করে শাসন করে গেছে। কিন্তু পূর্ববাংলার জনগণ পাকিস্তান সৃষ্টির পর প্রথম সাধারণ নির্বাচনে ১৯৭০ সালে মুজিব ও তার দলকে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় বিজয়ী করে নিয়ে আসে। তারপর গণহত্যা শুরু হয়, মুজিব আবার বিশ্বাসঘাতক হিসেবে চিহ্নিত হন। লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে লাহোর প্রস্তাবে যে সম্পূর্ণ স্বায়ত্তশাসনের কথা বলা হয়েছে, মুজিবের ছয় দফায় তা-ও চাওয়া হয়নি। তিনি কেন্দ্রীয় সরকারকে প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্র বিষয় দিয়ে দিতে প্রস্তুত ছিলেন।

 

দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস

পাকিস্তান বলেছে এক সপ্তাহ আগে মুজিবের বিচার শুরু হয়েছে

ম্যালকম ডব্লিউ ব্রাউনের ১৯ আগস্ট ১৯৭১ এর প্রতিবেদন

 

ঢাকা, পাকিস্তান, ১৮ আগস্ট : একজন সরকারি মুখপাত্র আজ বলেছেন বাঙালি বিচ্ছিন্নতাবাদীদের নেতা শেখ মুজিবুর রহমানের বিচার শুরু হয়েছে। পাকিস্তানি মুখপাত্র চারদিকে ছড়িয়ে পড়া সংবাদটি নিশ্চিত করে বলেন, নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের নেতা শেখ মুজিবুর রহমানের বিচার পূর্বনির্ধারিত তারিখ অনুযায়ী এক সপ্তাহ আগে শুরু হয়েছে। সপ্তাহান্তের ছুটির পর এ সপ্তাহে তা অব্যহত রাখা হয়েছে। কোথায় বিচার হচ্ছে তিনি তা প্রকাশ করেননি। বিচারের কার্যক্রম গোপন রাখা হয়েছে, কবে নাগাদ রায় প্রকাশ করা হতে পারে সরকার তা জানায়নি।

 

২৬ মার্চ সেনাবাহিনীর সদস্যরা রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে শেখ মুজিবকে গ্রেপ্তার করেছে। তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ এনে বিচার করা হচ্ছে, তা হচ্ছেÑ পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার মতো গুরুতর অপরাধ। আরও একটি অগ্রগতি রয়েছে, পূর্ব পাকিস্তানের সামরিক গভর্নর লেফটেন্যান্ট জেনারেল টিক্কা খান জাতীয় পরিষদে আওয়ামী লীগ থেকে নির্বাচিত ৩০ জন সদস্যের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্রদ্রোহ থেকে শুরু করে ধর্ষণ ও খুনের প্ররোচনার অভিযোগ এনেছেন।

 

দু’সপ্তাহ আগে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট জেনারেল আগা মোহাম্মদ ইয়াহিয়া খান আওয়ামী লীগ থেকে নির্বাচিত ৭৯ জন জাতীয় পরিষদ সদস্যকে রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকা-ের জন্য সদস্য পদে অযোগ্য ঘোষণা করেছেন এবং উপনির্বাচনের মাধ্যমে তাদের শূন্য আসন পূরণ করা হবে বলে জানিয়েছেন। গত ৭ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত পাকিস্তানের ইতিহাসের প্রথম সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ পূর্ব পাকিস্তানে জাতীয় পরিষদের প্রায় সবগুলো আসন পেয়েছে এবং কার্যত জাতীয় পরিষদে দৃঢ় সংখ্যাগরিষ্ঠতাই লাভ করেছে। কিন্তু কখনো আর পরিষদ ডাকা হয়নি এবং ২৫ মার্চ থেকে পূর্ব পাকিস্তান সামরিক দখলে যাওয়ার পর থেকে আওয়ামী লীগকে দমন করা হচ্ছে। এদিকে, দু’সপ্তাহ আগে পাকিস্তান সরকারের প্রকাশিত শ্বেতপত্রে সামরিক দখলদারি শুরুর আগে আওয়ামী লীগের সদস্যরা ১,০০,০০০ অবাঙালিকে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে

 

ডের স্পিগেল

‘তার অবশ্যই মৃত্যুদণ্ড হবে’ 

বন, ফেডারেল রিপাবলিক অব জার্মানি, ৩০ আগস্ট ১৯৭১

 

পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক নেতা শেখ মুজিবুর রহমানের নিয়তি পশ্চিম-পাকিস্তানি সামরিক ট্রাইব্যুনাল গোপনে নির্ধারণ করে দিচ্ছে। বিচারক শফি এরই মধ্যে তা জেনে গেছেন : ‘অবশ্যই তাকে মৃত্যুদ-ে দ-িত করা হবে।’ গাঙ্গেয় বদ্বীপ বাংলা থেকে ২০০০ কিলোমিটার দূরে লায়ালপুর জেলে গোপনে এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি হচ্ছেন বাংলার জন্য পর্যাপ্ত স্বায়ত্তশাসনের দাবিদার মুজিবুর রহমান। তার অপরাধ, গত বছর একটি অবাধ নির্বাচনে তিনি তার দল আওয়ামী লীগকে নিয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করেছেন। পশ্চিম পাকিস্তানিরা যারা এতদিন ধরে শাসন করে আসছে, পাকিস্তানে বাঙালিদের আধিপত্য তাদের ভালো লাগার কথা নয়। তারা একটি রক্তাক্ত গণযুদ্ধ চাপিয়ে বাঙালিদের আক্রমণ করেছে। অভিযোগ হচ্ছে : ‘পাকিস্তান রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্ররোচনা দেওয়া।’ পাকিস্তানের রাষ্ট্রপ্রধান ইয়াহিয়া খান রায়টি অনুমান করে নিয়েছেন। বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধি মিস্টার কারগিল প্রেসিডেন্টকে অভিযোগ প্রত্যাহারের অনুরোধ করলে জেনারেল ইয়াহিয়া বিষোদগার করে বলেন, ‘এই লোকটি রাষ্ট্রদ্রোহিতার মহা-অপরাধ করেছে। তার ফাঁসিকাষ্ঠে যাওয়া উচিত।’

 

বিচার প্রক্রিয়াটি যে যথার্থ তা দেখানোর জন্য ইয়াহিয়া খান অভিযুক্তকে নিজের আইনজীবী পছন্দ করতে বললেন। মুজিবের পছন্দ এ কে ব্রোহী, কিন্তু তিনি আতঙ্কে মামলাটি প্রত্যাখ্যান করতে চেয়েছিলেন; মর্নিং নিউজ এর সমালোচনা করে লিখেছে : পাকিস্তানে মুজিবকে সম্ভাব্য শ্রেষ্ঠ আইনি সহায়তা দেওয়ার জন্য এবং ন্যায়বিচার ও পক্ষপাতহীনতা প্রতিষ্ঠার জন্য আসামিপক্ষের মামলা গ্রহণ করতে সরকার ব্রোহীকে বাধ্য করেছে। তা সত্ত্বেও পাকিস্তান সুপ্রিম কোর্টের বিচারক শফি জানেন কী হবে মুজিবের মামলায় সামরিক রায়! ‘অবশ্যই তাকে মৃত্যুদ-ে দ-িত করা হবে, পরে তা ক্ষমা করে যাবজ্জীবন কারাদ- দেওয়া হবে।’ এই সর্বোচ্চ শাস্তি পাকিস্তানে বৈধ আইনি বিচারকে প্রতিষ্ঠা করবে এবং পশ্চিম পাকিস্তানিদের ক্রোধের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ হবে। আর মৃত্যুদ- মার্জনা করে আমরা বিশ্বব্যাপী সুনাম ও বিশ্বাস অর্জন করতে পারব।’ আওয়ামী লীগের ১৬৭ জন জাতীয় পরিষদের নির্বাচিত সদস্যের মধ্যে মাত্র ৮৮ জন পশ্চিমের সঙ্গে সহযোগিতার কথা ব্যক্ত করেছেন। পূর্ব বাংলার প্রাদেশিক পরিষদের ২৮৮ জন মুজিব অনুগামীর মধ্যে মাত্র ৯৪ জন নতুন পরিস্থিতি মেনে নিয়েছেন। বাকি যারা শেখ ও তার দলের প্রতি এবং স্বায়ত্তশাসনের দাবির প্রতি বিশ্বস্ত রয়েছেন তাদের ২৬ আগস্ট ৮টার মধ্যে স্ব স্ব জেলার সামরিক প্রশাসকের দপ্তরে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়ে দাপ্তরিক বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। সেখানে পছন্দের উকিলবিহীন একটি সংক্ষিপ্ত সামরিক আদালত তাদের অপেক্ষায় আছে। যদি প্রাদেশিক পরিষদের সদস্যরা সত্যিই এই আদালতে হাজির হন তাহলে কী ঘটবে তার ধারণা মেজর ইফতেখার দিয়েছেনÑ ‘একেক জন এমন আতঙ্ক ছড়াবে যে পর্যায়ক্রমে তার তিন পুরুষকে এটা নিয়ে ভাবতে হবে।’

 

জার্মান ডেমোক্রেটিক রিপাবলিকের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি

১৪ আগস্ট ১৯৭১

পশ্চিম পাকিস্তানের একটি সামরিক আদালত পূর্ব পাকিস্তানের আওয়ামী লীগ নেতা শেখ মুজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে বিচারকাজ শুরু করেছে। গত ডিসেম্বরের নির্বাচনে শেখ মুজিবের দল জাতীয় পরিষদে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে। তার বিরুদ্ধে ‘রাষ্ট্রদ্রোহ ও সরাসরি বিদ্রোহের’ অভিযোগ আনা হয়েছে। এই সংবাদ জার্মান ডেমোক্রেটিক রিপাবলিকে গভীর আশঙ্কা ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেন, এই বিচার নিয়ে পূর্ব পাকিস্তানের বৃহত্তম দলের প্রধান নেতার জীবন নিয়ে শঙ্কা ব্যক্ত করে বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ তাদের স্বর উচ্চকিত করেছেন। এই দেশের জনগণ পাকিস্তান সরকারের কাছে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ও মানবতার বিষয়টি মাথায় রাখার আবেদন জানিয়েছেন এবং নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নির্বাচিত নেতা শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি উপযুক্ত শ্রদ্ধা প্রদর্শনের অনুরোধ জানিয়েছেন। সামরিক আদালতে বিচার অব্যাহত রাখা এবং লীগের নেতাকে দ-িত করলে তা যে কেবল সন্দেহাতীতভাবে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বকে আরও বাড়িয়ে দেবে তা-ই নয়, ভারতীয় উপমহাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর তা ভয়ংকর প্রভাব বিস্তার করবে। এ ধরনের পরিস্থিতির অভ্যুদয় ঘটলে তা শান্তি ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিঘিœত করে তুলবে।

গোপন বিচার বন্ধ করে শেখ মুজিবুর রহমানকে মুক্তি দিন

ওয়ার্ল্ড পিস কাউন্সিল

১৯৭১ সালের ২০ আগস্ট হেলসিঙ্কিতে অবস্থিত সংস্থাটির পাকিস্তান সরকারের কাছে প্রেরিত আবেদন :

মানব আচরণের সব বিধিমালা সম্পূর্ণ অস্বীকার করে এবং বিশ্ব জনমত সম্পূর্ণ অগ্রাহ্য করে পাকিস্তানের ইয়াহিয়া খানের সরকার পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের নির্বাচিত নেতার বিচারের আয়োজন করেছে। গোপনে বিচার হচ্ছে, কেউ জানে না সামরিক শাসকরা কী ঘটাতে যাচ্ছে। ‘পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা’র জন্য শেখ মুজিবুর রহমানের এই কথিত বিচার হচ্ছে। আসলে এ ধরনের শব্দগুচ্ছ সাম্রাজ্যবাদী ব্রিটিশ শাসকদের কাছ থেকে নেওয়া। ঔপনিবেশিক রাজত্বের দিনগুলোতে শত শত ভারতীয় দেশপ্রেমিক এবং মুক্তিযোদ্ধার বিচার হয়েছে, ‘রাজা-সম্রাটের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা’র জন্য তাদের ফাঁসি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সে বিচার কখনো গোপনে হয়নি।

 

আর সব হত্যাকা- ও ধ্বংসযজ্ঞের মতো ইয়াহিয়ার একনায়কত্ব বিশ্বের কাছে এটাই প্রকাশ করেছে যে, এটাও জনবিদ্বেষী সাম্রাজ্যবাদী ও স্বৈরাচারীর অনুকারক। যে শেখ মুজিবুর রহমান ভারতে বহিরাগত ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন আর দোসররা আনুগত্যের সঙ্গে সাম্রাজ্যবাদী শাসনের সেবা করেছেন, সেই মানুষটির একমাত্র অপরাধ পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত সর্বপ্রথম সাধারণ নির্বাচনে বাংলাদেশের মানুষ তাকে ও তার দলকে ১৬৯-এর মধ্যে ১৬৭টি আসন উপহার দিয়েছে।

 

গণতন্ত্রের যে কোনো চর্চায় শেখ মুজিবুর রহমানের আজ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী থাকার কথা, ইয়াহিয়া খানের আমলাতান্ত্রিক-সামরিক-সামন্ততান্ত্রিক গোষ্ঠী তাকে ক্ষমতা অর্পণ করতে এবং জনগণের প্রকাশ্য রায় মেনে নিতে প্রস্তুত নয়। কাজেই জাতীয় আচরণ ও আন্তর্জাতিক আইনের সম্পূর্ণ ব্যত্যয় আচরণ ও আন্তর্জাতিক আইনের সম্পূর্ণ ব্যত্যয় ঘটিয়ে সঙ্গোপনে শেখ মুজিবুর রহমানের বিচার বসানো হয়েছেÑ উদ্দেশ্য, ক্ষমতালোভী ক্ষুদ্র গোষ্ঠীকে সন্তুষ্ট করা, যারা বাংলাদেশের জনগণের ওপর ঔদ্ধত্যপূর্ণ আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে এবং এর মধ্যে শত-সহস্র মানুষকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে।

 

পূর্ব-পশ্চিম-উত্তর-দক্ষিণ পৃথিবীর সর্বত্র জনমত পূর্ব পাকিস্তানে সংঘটিত গণহত্যায় বিহ্বল হয়ে পড়েছে এবং এই ট্র্যাজেডি অবিলম্বে যদি বন্ধ না করা হয় তাহলে এটা সবার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে। আর এ ধরনের দুর্ভাগ্যজনক পরিণতিতে সমগ্র অঞ্চল বড় মাপের দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়বে, যা হয়ে উঠবে বিশ্বশান্তির জন্য ভয়াবহ হুমকিস্বরূপ। পৃথিবীর বিভিন্ন ধারার বিভিন্ন মতের মানুষ সর্বসম্মতভাবে জানিয়েছেন এখান থেকে বেরিয়ে আসার একমাত্র পথ বাংলাদেশের রাজনৈতিক সমাধান।

 

কেবল শেখ মুজিবুর রহমানকে মুক্তি দিয়ে তার ও তার সহকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করে রাজনৈতিক সমাধান বের করা সম্ভব। কারণ তারাই সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের ইচ্ছার প্রতিনিধিত্ব করেন। গোপনে তার বিচার করে তার বিরুদ্ধে মৃত্যুদ- দেওয়ার মতো অভিযোগ দায়ের করা বরং অকারণে ধ্বংসযজ্ঞকেই ডেকে আনা হবে এর পরিণতি হবে ভয়াবহ।

অনুবাদ : আন্দালিব রাশদী | ১ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০

দেশ রূপান্তর 

What's Your Reaction?

like
0
dislike
0
love
0
funny
0
angry
0
sad
0
wow
0