ভয়াল ২১ আগস্ট

ভয়াল ২১ আগস্ট

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বাঙালির ইতিহাসে অশ্রæভেজা রক্তে মাখা আরও একটি দিন। বিএনপি-জামাত জোট সরকারের আমলে আওয়ামী লীগের এক জঙ্গি ও সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে বিকাল ৫টা ২২ মিনিটে ভয়াবহ বর্বরোচিত নৃশংস গ্রেনেড হামলা চালানো হয়।

গ্রেনেড হামলার ঘটনায় মহিলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি, আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির মহিলা বিষয়ক সম্পাদক, প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের পতœী আইভি রহমানসহ ঝরে যায় ২৪টি তাজা প্রাণ। আহত হয় শেখ হাসিনাসহ ৫ শতাধিক। শুধু শেখ হাসিনাই নয়, বাঙালির অধিকার আদায়ের প্রতিষ্ঠান আওয়ামী লীগকে চিরতরে ধ্বংস করতে এই হামলা চালানো হয়। ইতিহাসে লেখা হলো আরও একটি বীভৎস তারিখ।

ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সমাবেশে প্রধান অতিথি শেখ হাসিনা অনুষ্ঠান¯’লে পৌঁছান বিকাল ৫টায়। হামলার ঘটনা এতই প্রি-প্ল্যান ছিল যে আওয়ামী লীগকে মঞ্চ করার অনুমতি দেয়নি পুলিশ। ট্রাকের ওপর ২০ মিনিটের বক্তব্য রেখে নেতা-কর্মীদের বিক্ষোভ মিছিল শুরু করার ঘোষণা দেন। ঠিক এ-সময়ই মঞ্চ লক্ষ্য করে শুরু হয় গ্রেনেড হামলা। আওয়ামী লীগের নেতারা নিজেদের জীবন বাজি রেখে মানববর্ম তৈরি করে মার্সিডিজ বেঞ্জ গাড়িতে তুলে দেন প্রিয় নেত্রী শেখ হাসিনাকে। মাত্র দেড় মিনিটের মধ্যে পরপর বিস্ফোরিত হয় ১১টি শক্তিশালী আর্জেস গ্রেনেড। অবিস্ফোরিত অব¯’ায় পড়ে থাকে আরও ৪টি।

বিস্ফোরণের পরপর ধোঁয়ার কুÐলী, মানুষের চিৎকার, ছোটাছুটিতে একটি প্রাণবন্ত সমাবেশের চেহারা পাল্টে হয়ে যায় হাহাকার আর্তনাদ ক্রন্দন শিহরিত। উপ¯ি’ত সকলে হয়ে ওঠে উ™£ান্ত, ভীতু ও অপ্র¯‘ত। রমনা ভবনের সড়কে জায়গায় জায়গায় প্রবাহিত হয় রক্তের স্রোত। ছেঁড়া স্যান্ডেল, রক্ত, পড়ে থাকা ব্যানার, পতাকার সঙ্গে এখানে-সেখানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে আছে নারী-পুরুষের দেহÑ কেউ নিথর-স্তব্ধ, যন্ত্রণায় কাতরানো দেহ। সবচেয়ে দুঃখজনক ঘটনা হলো ঘটনার পর উদ্ধার অভিযাত্রাকে ব্যাহত করার জন্য পুলিশ ব্যাপক লাঠিচার্জ করে ও কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে। কেউ কেউ উদ্ধারকারীদের বুকে মাথা রেখে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে। আওয়ামী লীগের যে কর্মীটি সন্ত্রাসবিরোধী ব্যানার নিয়ে এসেছিল সেই ব্যানারেই তার ক্ষত-বিক্ষত দেহটি বহন করে নিয়ে যায় তার সহকর্মীরা। আহতদের আর্তচিৎকার আর স্বজনদের গগনবিদারী আর্তনাদে প্রকম্পিত হাসপাতালের পরিবেশ। এমন কী নিহতদের নিতে ও জানাজা পড়তেও বাধা দিয়েছে তথাকথিক ইসলামি নামধারী জামাত-বিএনপি সরকার।
শেখ হাসিনা যখন ঘটনা¯’ল ত্যাগ করছিলেন তখনও একই দিক থেকে কয়েক সেকেন্ড বিরতি দিয়ে গ্রেনেড এসে ঘটনা¯’লে বিস্ফোরিত হতে থাকে। গ্রেনেড আক্রমণ ব্যর্থ হলে নেত্রীকে হত্যার বিকল্প পš’া হিসেবে বন্দুকধারীদের তৈরি রাখা হয়। আর এই বন্দুকধারীরাই খুব হিসাব কষে নেত্রীর ওপর গুলি চালায়। নেত্রী উঠে যান গাড়িতে। শেখ হাসিনাকে বাঁচিয়ে স্পটেই মারা যান কর্পোরাল মাহবুব। গাড়িতে গুলি করলে বুলেট প্রæফ কাচ ভেদ করতে ব্যর্থ হলে তারা গাড়ি লক্ষ্য করে গ্রেনেড ছুড়ে মারে। কিš‘ এ চেষ্টাও ব্যর্থ হয়। সবশেষে গাড়ির চাকা লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে থামানোর চেষ্টা করে। গুলির আঘাতে গাড়ির বাঁ-পাশের সামনের ও পেছনের দুটি চাকা পুরোপুরিভাবে পাংচার হয়ে যায়। চালক অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে সেই গাড়িটি বঙ্গবন্ধু এভিনিউর দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে ৬টার দিকে ধানমন্ডির সুধা সদনে নিয়ে আসে।
এই হামলার অন্যতম মূল নেতা মুফতি হান্নান স্বীকারোক্তি মতে হামলার একদিন আগে ২০ আগস্ট হুজির দুই সদস্য আহসানউল্লাহ কাজল ও আবু জান্দাল ঘটনা¯’লের আশপাশে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে রেকি করে যায়। হুজির সদস্য বাদেও জামাতের ১৫ সদস্য অংশগ্রহণ করে।
এ ধরনের জনসভা বা সভামঞ্চের আশপাশের বিভিন্ন ভবনের ছাদে ও বিভিন্ন ফ্লোরে পাহারায় থাকে স্বে”ছাসেবকরা। কিš‘ সেদিন স্বে”ছাসেবকদের কোথাও অব¯’ান করতে দেয়নি পুলিশ।
সমাবেশের মঞ্চটি ছিল পশ্চিমমুখী। হামলাকারীদের প্রতি দলে চারজন করে ৩টি দলে ভাগ করে দেওয়া হয়।

মঞ্চে আক্রমণের দায়িত্ব ছিল জান্দাল, কাজল, বুলবুল ও লিটনের সমন্বয়ে গঠিত প্রথম দলের। তাদের অব¯’ান ছিল মঞ্চের দক্ষিণ-পশ্চিম পাশে। সবুজ, জাহাঙ্গীর আলম, মাসুদ ও উজ্জ্বলের সমন্বয়ে দ্বিতীয় এবং মুত্তাকিম, মুরসালিন, আরিফ হাসান ও ইকবালের দায়িত্ব ছিল যথাক্রমে পশ্চিম ও পশ্চিম-উত্তর দিকে অব¯’ান নিয়ে সমাবেশে উপ¯ি’ত নেতা-কর্মীর ওপর আক্রমণ করা। এই ১২ জনকে ১৫টি গ্রেনেড ভাগ করে দেওয়া হয়।

আসামি জাহাঙ্গীর তার জবানবন্দিতে বলেছে প্রথম গ্রেনেড হামলার পর রক্তাত মানুষদের চিৎকার ও ব্যাপক হট্টগোল শুরু হলে সেই ভয়ে আর পরের গ্রেনেডটি ছুড়তে পারেনি। প্রথম গ্রেনেড চার্জের পর মঞ্চের জায়গা ফাঁকা হলে দ্বিতীয় গ্রেনেড মারার কথা ছিল বুলবুলের। কিš‘ মানুষের দিগবিদিক ছোটাছুটির মধ্যে ধাক্কা খেয়ে পড়ে যায় বুলবুল, শেষ পর্যন্ত বুলবুল আর গ্রেনেড ছুড়তে পারিনি। পরে সেফটি পিন না খুলেই গ্রেনেড মাটিতে ফেলে পালিয়ে যায় সে!

এই হামলার তদন্ত কয়েক দফা হলেও শুরুতেই মামলার গতি ভিন্ন পথে নেওয়ার চেষ্টা করে জোট সরকার। হামলার পিছনে যে হাওয়া ভবনের দুর্দান্ত প্রতাপশালী রাজনৈতিক ব্যক্তি তারেক রহমান ও তৎকালীন বিএনপি-জামাত জোট সরকারের সরাসরি হাত ছিল তা বিভিন্ন তদন্ত রিপোর্টে বেরিয়ে এসেছে। তাদের নির্দেশেই বিশেষ ইঞ্জিনিয়ারিং-এর মাধ্যমে মামলার সকল আলামত নষ্ট করে এটা আওয়ামী লীগের আভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে হয়েছে বলে তারা প্রচার করে পুরো ঘটনাটিকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। এমন কী মামলার গুরুত্ব নষ্ট করতে হামলার স্বীকার আওয়ামী লীগের দিকে সন্দেহের আঙ্গুল তুলেছিল এই সরকারের একাধিক মন্ত্রী ও নেতা।

সেই সময়ের পত্র-পত্রিকাগুলোর পাতা উল্টিয়ে দেখলেই বুঝা যে তখনকার বিএনপি ও জামাতের শীর্ষ নেতারা বিভিন্ন বক্তৃতায় বলে বেড়াত আওয়ামী লীগের অব¯’া এমন হবে যে ৪০ বছরেও তারা এদেশের ক্ষমতায় আসতে পারবে না। কারণ তারা জানতো শেখ হাসিনাকে চিরতরে সরিয়ে দেওয়ার জন্য যে পরিকল্পনা করা হয়েছে, তা বাস্তবায়িত হলে আওয়ামী লীগ আর কোনোদিনই ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না। এজন্য সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় আগেই জঙ্গিদের মাঠে নামানো হয়েছিল। পাকিস্তানের গোয়েন্দা সং¯’ার (আইএসআই) মাধ্যমে আর্জেস গ্রেনেড এনেছিল বিএনপি-জামাত জোট সরকার।
এ ধরনের ন্যক্কারজনক হামলায় বিশ্ব মানবতায় হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হলেও টলেনি শুধু বিএনপি-জামাত জোট সরকারের পাষাণ হৃদয়। বরং এ মামলা তদন্তের নামে তারা নানা পৈশাচিক ও অমানবিক খেলায় মেতে ওঠে। এ হত্যা মামলাকে ধামাচাপা দেওয়ার জন্য দায়সারা গোছের একটি ও আওয়ামী লীগের পক্ষ হতে দুটি মামলা করা হয়। এসব মামলার তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই সিআইডি’তে মামলা ¯’ানান্তর করা হয়।
আওয়ামী লীগের দাবির মুখে বিএনপি সরকার ২১ আগস্টের ঘটনা তদন্তের জন্য এফবিআই, ইন্টারপোল ও স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডের গোয়েন্দাদের বাংলাদেশে আসার অনমুতি দেয়; কিš‘ সেসব গোয়েন্দা প্রতিবেদনের কোনোটিই প্রকাশ করা হয়নি।

২০০৪ সালের ২২ আগস্ট বিচারপতি মো. জয়নুল আবেদীনকে চেয়ারম্যান করে এক সদস্যের বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠন করে সরকার। মাত্র এক মাস ১০ দিনের মাথায় ওই বছরের ২ অক্টোবর কমিশন সরকারের কাছে ১৬২ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, কমিশনের সংগৃহীত তথ্য-প্রমাণ সন্দেহাতীতভাবে ইঙ্গিত করে, ২০০৪ সালের ২১ আগস্টের ভয়াবহ গ্রেনেড হামলার পেছনে একটি শক্তিশালী বিদেশি গোয়েন্দা সং¯’া জড়িত ছিল। যদিও ওই প্রতিবেদনে বিদেশি শক্তি বলতে কোনো দেশের নাম বলা হয়নি।
স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বাবরের তত্ত¡াবধানে পরিচালিত তদন্ত কমিটি অভিযান চালিয়ে সিআইডির তদন্তকারী কর্মকর্তা এএসপি মুন্সি আতিকুর রহমান একদিনের মধ্যেই ২০ জনকে গ্রেফতার করে। যাদের মধ্যে ছিল শৈবাল সাহা পার্থ ও আওয়ামী লীগ নেতা ওয়ার্ড কমিশনার মোখলেসুর রহমান। জিজ্ঞাসাবাদের নামে তাদের ওপর চালানো হয় অমানসিক নির্যাতন। কিš‘ শেষ পর্যন্ত পুলিশ প্রতিবেদনে বলা হয়, অপরাধের সঙ্গে তাদের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তারপর তৎকালীন সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০০৫ সালের ৯ জানুয়ারি নোয়াখালির সেনবাগ থেকে জজ মিয়াকে গ্রেফতার করে। এর পরদিন গুলশান থানার হত্যা মামলার আসামি দুই ভায়রা আবুল হাসেম রানা ও শফিকুল ইসলাম নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় অস্ত্রসহ গ্রেফতার হয়। কৌশলে দুই ভায়রাকেই গ্রেনেড হামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। পরে জজ মিয়ার দরিদ্র পরিবারের আজীবন ভরণপোষণের দায়িত্ব নেওয়ার লোভ দেখিয়ে এবং দুই ভায়রা রানা ও শফিকুল ইসলামকে ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে বাধ্য করা হয়। ‘জজ মিয়া নাটক’ এখন বাংলা প্রবাদে পরিণত হয়েছে।

জনমনে কিছু প্রশ্ন ঘুরপাক খেতে থাকেÑ 
পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ব্যবহৃত আর্জেস গ্রেনেড কীভাবে সীমানা পার হয়ে বাংলাদেশে এলো? 
সমাবেশে মঞ্চ করার অনুমতি কেন দেয়নি পুলিশ? 
এ ধরনের সমাবেশের আশপাশের বিল্ডিংগুলোর বিভিন্ন ফ্লোরে দলের স্বে”ছাসেবক থাকলেও সেদিন পুলিশ কাউকে অব¯’ান করতে দেইনি কেন? 
নিহত নেতা-কর্মীদের জানাজা পড়তে বাধা দেওয়া হলো কেন? শেখ হাসিনার গাড়ি হামলার ¯’ান থেকে বের হতে বাধা দেওয়ার জন্য পুলিশ লাটিচার্জ করল কেন?
নৃশংস এ ঘটনার পর আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীকে উদ্ধার কার্যক্রম ব্যাহত করার জন্য পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে কেন? 
তাহলে কী হত্যাকারীদের পালিয়ে যাওয়ার পথ কৌশলে সুগম করা হয়েছিল? 
শুরুতেই মামলার গতিপথ জামাত-বিএনপি সরকার ভিন্ন পথে নিয়ে গেল কেন? 
জামাত-বিএনপি সরকারের সময় পুলিশ কোন ফাইলান চার্জশিট দিল না কেন? 
এই হামলায় অবিস্ফোরিত গ্রেনেড অতি দ্রæত নষ্ট করা হলো কেন? 
হামলার পরে কোনো প্রকার তদন্ত ব্যতীত ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের ঘটনা¯’ল পুলিশ পানি দিয়ে পরিষ্কার করে মামলার আলামত ধ্বংস করে কেন? 
বিচারপতি জয়নুল আবেদীনের তদন্ত কমিশনের রিপোর্ট প্রকাশ করা হলো না কেন? 
মামলায় জজ মিয়া নাটক সাজানো হলো কেন? মামলায় তদন্তের জন্য এফবিআই, ইন্টারপোল ও স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডের গোয়েন্দাদের রিপোর্ট 
প্রকাশ করা হলো না কেন?

ইতিহাস সাক্ষী, সত্যকে হাজারো মিথ্যা দিয়া ঢেকে রাখা যায় না, বিএনপি-জামাত জোট হাজারো মিথ্যা ও ছলচাতুরীর মাধ্যমেও এ সত্যকে ঢেকে রাখতে পারেনি। এক-এগারো পরবর্তী তত্ত¡াবধায়ক সরকারের আমলে চাঞ্চল্যকর ও প্রশ্নবোধক মামলা হিসেবে পুনরুজ্জীবিত হয়। কেঁচো খুঁড়তে সাপ বেরিয়ে আসার মতোই সে-সময় তদন্তে বিএনপি আমলে মামলাটিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার বিষয়টি প্রকাশ হয়ে পড়ে। এবং তদন্তে প্রাপ্ত অভিযোগের প্রেক্ষিতে মামলার চার্জশিট দাখিলকারী কর্মকর্তা সিআইডির সিনিয়র এএসপি ফজলুল কবির বাদী হয়ে ২০০৮ সালের ৩০ মার্চ রাজধানীর পল্টন থানায় সিআইডির সাবেক তিন কর্মকর্তা এএসপি আবদুর রশীদ, মুন্সী আতিকুর রহমান ও এসপি রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। মামলায় তদন্ত ভিন্ন খাতে প্রবাহ ও জোরপূর্বক স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি আদায়ের অভিযোগ করা হয়। আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেওয়া জজ মিয়া, শফিকুল ইসলাম ও আবদুল হাসেম রানা জিজ্ঞাসাবাদে সিআইডির সাজানো নাটকের কথা স্বীকার করে। ২০০৯ সালের ৩ আগস্ট হত্যা ও বিস্ফোরক মামলা দুটি পুনর্তদন্তের নির্দেশ দেয়।

দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০০৮ সালের জুন মাসে মুফতি হান্নানসহ ২২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেন সিআইডির জ্যেষ্ঠ এএসপি ফজলুল কবির। মদদদাতাদের শনাক্তকরণের জন্য ২০০৯ সালের ৩ আগস্ট রাষ্ট্রপক্ষ মামলাটি অধিকতর তদন্তের আবেদন করলে ট্রাইব্যুনাল তা মঞ্জুর করেন। এরপর মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পান সিআইডির পুলিশ সুপার আবদুল কাহহার আখন্দ। তিনি ২০১১ সালের ৩ জুলাই বিএনপি নেতা তারেক রহমানসহ ৩০ জনের নাম উল্লেখ করে মোট ৫২ জনের নামে হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে দুটি অভিযোগপত্র দেন। ২০১২ সালের ৯ এপ্রিল পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য করা হয়।
গ্রেনেড হামলার পর মামলা হয়েছিল পৃথক ৩টি। এর মধ্যে প্রথম সাত বছরের মধ্যেই তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন হয় মোট ছয়বার। প্রথম তদন্ত হয় বিএনপি-জামাত জোট সরকারের আমলে কিš‘ কোনো প্রতিবেদন দাখিল হয়নি। তত্ত¡াবধায়ক সরকার আমলে নতুন তদন্তে সিআইডির এএসপি ফজলুল কবীর ২০০৮ সালের ১১ জুন অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ওই অভিযোগ পত্রে মুফতি হান্নানসহ ২২ জনকে অভিযুক্ত করা হলেও গ্রেনেডের উৎস ও মদদদাতাদের শনাক্ত করা হয়নি। বর্তমান সরকার আমলে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পর আদালত মামলার বর্ধিত তদন্তের আদেশ দেন। ১৩-দফা সময় বাড়িয়ে ২০১১ সালের ৩ জুলাই সম্পূরক অভিযোগপত্র জমা দেওয়ার মধ্য দিয়ে ভয়ঙ্কর গ্রেনেড হামলার তদন্ত শেষ হয়। আসামি পক্ষের আইনজীবীরা মামলা দুটি পাঁচবার উ”চ আদালতে নিয়ে যাওয়ায় আদালতের ২৯২ কার্যদিবস ব্যয় হয়েছে। ১১৯তম কার্যদিবসে মামলার যুক্তিতর্ক শেষ ২০১৮ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর। এর মধ্যে রাষ্ট্রপক্ষ ৩০ ও আসামিপক্ষ ৮৯ কার্যদিবস ব্যয় করেছে। ঘটনার ১৪ বছর এক মাস ২০ দিন পর ঐ বছর বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিন ১০ অক্টোবর চাঞ্চল্যকর এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।

যেসব বিষয় বিবেচনায় এনে রায় দিয়েছেন আদালত
আহাছানাউল্লা কাজলের ভাড়া করা পশ্চিম মেরুল বাড্ডার ম-৩০ নম্বরের ফ্ল্যাটের তৃতীয় তলায় ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট ২৩ নম্বর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের জন্য আসামিরা একত্রিত হয়ে পরিকল্পনা ও প্র¯‘তি গ্রহণ করে কি না ও গ্রেনেড নিক্ষেপকারীগণ এ ঘটনা¯’ল থেকে গ্রেনেড সংগ্রহ করে কি না তা বিবেচনায় আনেন আদালত।
অবসরপ্রাপ্ত খাদ্য পরিদর্শক রুহুল আমিনের বাড়ি ভাড়া নিয়ে আসামি মুফতি হান্নান মুন্সি জঙ্গি কর্মে নিযুক্ত ছিল কি না? ওই বাড়ি থেকে মুফতি হান্নান ২০০৫ সালে র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার হয়েছিল কি না?
মেরুল বাড্ডার অবসরপ্রাপ্ত লে. কর্নেল গোলাম রব্বানির বাড়ির তৃতীয় তলায় আসামিরা ভাড়া নিয়ে গ্রেনেড সরবরাহ করত কি না?
জোট সরকারের উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুর ধানমন্ডিতে সরকারি বাসভবনে ২৮ আগস্ট আবদুস সালাম পিন্টু, লুৎফুজ্জামান বাবর, মুফতি হান্নান, কাজল, আবু তাহের, মাওলানা তাজউদ্দিন গণ ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের জনসভায় গ্রেনেড হামলার মাধ্যমে তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেতা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের নেতাদের গ্রেনেড নিক্ষেপ করে হত্যার ষড়যন্ত্র করে কি না?
২০০৪ সালের ১৯ আগস্ট আসামি কাজল, আবু তাহের, আবদুস সালাম পিন্টু, মুফতি মঈন পরিকল্পনা ও অপরাধ সংগঠনের জন্য প্রয়োজনীয় শলাপরামর্শ ও ষড়যন্ত্র করেন কি না?
ঢাকায় মোহাম্মদপুরের নূর রিয়াল এস্টেটের নিচতলায় হরকাতুল জিহাদ আল ইসলামি সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালিত হতো কি না? আসামিরা ওখানে একত্রিত হয়ে গ্রেনেড সংগ্রহ করত কি না?
গুলশান ‘হাওয়া ভবন’ বিএনপি-জামাত ঐক্যজোট সরকারের কার্যক্রমের কেন্দ্রবিন্দু ছিল কি না? হাওয়া ভবনে পলাতক আসামি তারেক রহমান অপরাধ সংগঠনের জন্য ষড়যন্ত্রমূলক সভা করেন কি না?
নূর রিয়েল এস্টেট এলাকাধীন সাত গম্বুজ মসজিদে ঘটনার আগে আসামিরা শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের হত্যার পরিকল্পনা করে কি না।
আসামিদের নির্বিঘেœ ঘটনা¯’ল ত্যাগ করতে ও অপরাধের দায় থেকে বাঁচার সুযোগ করে দেওয়ার অপরাধ সংঘটিত হয়েছে কি না?
বিভিন্ন ¯’ানে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র ও পূর্ব পরিকল্পনা করে পরবর্তীতে মূল ঘটনা¯’ল আওয়ামী লীগ কার্যালয় ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউর সম্মুখে ঘটনার তারিখ ও সময়ে আর্জেস গ্রেনেড হামলার পরিপেক্ষিতে আওয়ামী লীগের নেতৃ¯’ানীয় নেতাকর্মীসহ ২৪ জনকে হত্যা এবং তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেতা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রীসহ অসংখ্য নেতাকর্মীকে গুরুতর আহত করার অপরাধে আসামীগণকে দÐবিধির ১২০বি/৩২৪/৩২৬/৩০৭/৩০২/১০৯/১০৯/২০১/২১২/২১৭/২১৮/২৩০ ও ৩৪ ধারায় শাস্তি প্রদান করা যায় কি না? বিবেচনায় এনেছেন আদালত।
গ্রেনেড হামলা মামলায় মোট ৪৯ জন আসামি ছিলেন। যাদের মধ্যে ১৯ জনকে যাবজ্জীবন এবং ১৯ জনকে মৃত্যুদÐ দেওয়া হয়েছে। লুৎফুজ্জামান বাবর এবং আবদুস সালাম পিন্টুসহ ৩১ জন বর্তমানে কারাগারে আছেন। এছাড়া তারেক রহমান এবং হারিছ চৌধুরীসহ ১৮ জনকে মামলার নথিতে পলাতক দেখানো হয়েছে। পলাতক আসামিদের মধ্যে রয়েছেনÑ লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) সাইফুল ইসলাম জোয়ার্দার, হানিফ পরিবহনের মালিক মোহাম্মদ হানিফ, পুলিশের সাবেক ডিআইজি খান সাঈদ হাসান ও ঢাকা মহানগর পুলিশের সাবেক ডিসি (পূর্ব) ওবায়দুর রহমান খান। নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গিগোষ্ঠী হরকাতুল জিহাদের নেতা মাওলানা মহিবুল মুত্তাকিন, আনিসুল মুরসালিন ওরফে মুরসালিন, মোহাম্মদ খলিল, জাহাঙ্গীর আলম বদর, মো. ইকবাল, মাওলানা আবু বকর ওরফে হাফেজ লোকমান হাওলাদার, মুফতি আবদুল হাই, মাওলানা লিটন ওরফে দেলোয়ার হোসেন ওরফে জোবায়ের, মুফতি শফিকুর রহমান। বাকি তিনজনের অন্য মামলায় ফাঁসি কার্যকর হওয়ায় গ্রেনেড হামলা মামলা থেকে তাদের বাদ দেওয়া হয়েছে।

মামলার আসামিরা কে কোথায় আছে?

তারেক রহমান : বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান গত ১০ বছর যাবত লন্ডনে অব¯’ান করছেন। অভিযোগপত্রে তাকে ‘পলাতক’ হিসেবে দেখানো হয়েছে। অর্থপাচার এবং দুর্নীতির মামলায় এরই মধ্যে তার সাজা হয়েছে। 
লুৎফুজ্জামান বাবর : ২০০৭ সালে সেনা-সমর্থিত তত্ত¡াবধায়ক সরকার ক্ষমতাসীন হবার পর মি. বাবরকে আটক করা হয়। সেই থেকে তিনি কারাগারে আছে। গ্রেনেড হামলা মামলায় তাকে মৃত্যুদÐ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলায় এরই মধ্যে লুৎফুজ্জামান বাবরকে ফাঁসির দÐাদেশ দেওয়া হয়েছে। আবদুস সালাম পিন্টু : বিএনপি সরকারের সময় শিক্ষা উপমন্ত্রী ছিলেন আবদুস সালাম পিন্টু। এছাড়া তখন তিনি টাঙ্গাইল জেলা থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। উপমন্ত্রী থাকলেও তারেক রহমানের সাথে তার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল বলে জানা যায়। গ্রেনেড হামলা মামলার রায়ে তাকে মৃত্যুদÐ দিয়েছেন আদালত।
আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ : জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ছিলেন তিনি। গ্রেনেড হামলা মামলায় তিনি ছিলেন অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আসামি। কিš‘ যুদ্ধাপরাধ মামলায় তার ফাঁসি কার্যকর হওয়ায় গ্রেনেড হামলা মামলা থেকে তার নাম বাদ দেওয়া হয়।
মুফতি হান্নান : নিষিদ্ধ ঘোষিত উগ্র ইসলামপšি’ দল হরকাতুল জিহাদের ক্যাডার ছিলেন তিনি। গ্রেনেড হামলা মামলার মূল আসামি। তার স্বীকারোক্তির মাধ্যমেই গ্রেনেড হামলা মামলায় মোড় ঘুরে যায় বলে জানান রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা। মুফতি হান্নানের স্বীকারোক্তির পর তারেক রহমান এবং লুৎফুজ্জামান বাবরসহ অনেককে এই মামলার আসামি করা হয়। সিলেটে গ্রেনেড হামলা চালিয়ে তিনজনকে হত্যার দায়ে ২০১৭ সালে তার ফাঁসি কার্যকর করা হয়। সে গ্রেনেড হামলায় ঢাকায় নিযুক্ত তৎকালীন ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরী আহত হয়েছিলেন। এছাড়া আরও কয়েকটি বোমা হামলার সাথে জড়িত ছিল এই জঙ্গি।
তাজুল ইসলাম : তিনি মাওলানা তাজউদ্দীন হিসেবে পরিচিত। বিএনপি সরকারের শিক্ষা উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টু তার ভাই। গ্রেনেড হামলার পর তাকে ভুয়া পাসপোর্টের মাধ্যমে বিদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি দক্ষিণ আফ্রিকায় আছেন বলে জানা যায়। গ্রেনেড হামলা মামলার রায়ে মৃত্যুদÐ দেওয়া হয়েছে তাকে।
হারিছ চৌধুরী : বিএনপি সরকারের সময় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সচিব ছিলেন তিনি। তৎকালীন সরকারে যাদের প্রভাব অনেক বেশি ছিল হারিছ চৌধুরী তাদের মধ্যে অন্যতম। গ্রেনেড হামলা মামলায় তাকে যাবজ্জীবন শাস্তি দেওয়া হয়েছে। ২০০৭ সালে সেনা-সমর্থিত তত্ত¡াবধায়ক সরকার ক্ষমতাসীন হওয়ার পর দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান মি. চৌধুরী। বর্তমানে তার অব¯’ান সম্পর্কে কেউ নিশ্চিত নয়। তবে তিনি যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ একাধিক দেশে আসা-যাওয়া করছেন বলে তদন্তকারী কর্মকর্তারা বলছেন।
মেজর জেনারেল (অব.) রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী : বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাসীন হওয়ার পর তাকে আটক করা হয়। প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সং¯’া বা ডিজিএফআই-র প্রধান ছিলেন মেজর জেনারেল (অব.) রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী। তৎকালীন প্রভাবশালী সেনা কর্মকর্তাদের মধ্যে তিনি ছিলেন অন্যতম। গ্রেনেড হামলা মামলায় তাকে মৃত্যুদÐ দেওয়া হয়। এছাড়া ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলায় এরই মধ্যে মৃত্যুদÐ দেওয়া হয়েছে মেজর জেনারেল (অব.) রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরীকে।
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবদুর রহিম : জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সং¯’া বা এনএসআই-র সাবেক মহাপরিচালক। গ্রেনেড হামলা মামলায় তিনি ছিলেন অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আসামি। মামলার রায়ে তাকে মৃত্যুদÐ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলায় এরই মধ্যে তাকে মৃত্যুদÐ দেওয়া হয়েছে।
লে. কমান্ডার (অব.) সাইফুল ইসলাম ডিউক : বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সাবেক এ কর্মকর্তা খালেদা জিয়ার ভাগ্নে। এ মামলায় দীর্ঘ সময় তিনি জামিনে থাকলেও এখন তিনি কারাগারে রয়েছেন।
শহুদুল হক : আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলার সময় পুলিশ প্রধান ছিলেন শহুদুল হক। বর্তমানে তিনি কারাগারে আছেন। মামলায় দুই বছরের কারাদÐ হয়েছে তার। গ্রেনেড হামলা হওয়ার পর তার ভুমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে রাষ্ট্রপক্ষ। কারণ, হামলার পর ঘটনা¯’ল একবারও পরিদর্শন করেননি মি. হক। শহুদুল হক একসময় সেনা কর্মকর্তা ছিলেন। পরে তাকে পুলিশ বাহিনীতে অন্তভুক্ত করেন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। ২০০১ সালে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর শহুদুল হককে পুলিশ প্রধানের পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়। বিএনপি সরকারের সময় পুলিশ প্রধান পদে খুব বেশি দিন থাকতে পারেন নি তিনি। আদালত অবমাননার দায়ে তাকে সে পদ ছাড়তে হয়েছিল। ২০০৩ সালের এপ্রিল মাস থেকে ২০০৪ সালের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত, অর্থাৎ এক বছর আট মাস পুলিশ প্রধানের দায়িত্ব ছিলেন মি. হক। 
মোহাম্মদ আশরাফুল হুদা : গ্রেনেড হামলার সময় আশরাফুল হুদা ঢাকার পুলিশ কমিশনারের দায়িত্বে ছিলেন। ২০০৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর থেকে ২০০৫ সালের ৭ এপ্রিল পর্যন্ত অর্থাৎ চার মাসেরও কম সময় পুলিশ প্রধানের দায়িত্বে ছিলেন আশরাফুল হুদা। মামলায় দুই বছরের কারাদÐ দেওয়া হয়েছে তাকে।
খোদাবক্স চৌধুরী : গ্রেনেড হামলার সময় অতিরিক্ত পুলিশ প্রধানের দায়িত্বে ছিলেন খোদাবক্স চৌধুরী। পরবর্তীতে তিনি পুলিশ প্রধান হয়েছেন। গ্রেনেড হামলা মামলায় তাকে দুই বছরের কারাদÐ দেওয়া হয়েছে।
শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ : বিএনপির টিকিটে কুমিল্লা থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। গ্রেনেড হামলা মামলায় তাকে যাবজ্জীবন সাজা দেওয়া হয়। মামলার অভিযোগপত্রে তাকে পলাতক দেখানো হয়েছে। ধারণা করা হয়, তিনি সৌদি আরবে পলাতক আছেন।
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এটিএম আমিন : বিএনপি সরকারের সময় তিনি প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সং¯’া বা ডিজিএফআই-র দ্বিতীয় শীর্ষ ব্যক্তি ছিলেন। পরবর্তীতে সেনা-সমর্থিত তত্ত¡াবধায়ক সরকারের সময় তিনি ডিজিএফআই-র প্রধান হয়েছিলেন। সেই সরকারের মেয়াদ শেষ হলে তিনি আমেরিকায় চলে যান। মামলার কাগজপত্রে তাকে পলাতক দেখানো হয়েছে।
লে. কর্নেল (অব.) সাইফুল ইসলাম : সাবেক এ সেনা কর্মকর্তা বর্তমানে কানাডায় অব¯’ান করছেন বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবর বেরিয়েছে। সিআইডির সাবেক বিশেষ পুলিশ সুপার রুহুল আমিন, সাবেক সিনিয়র এএসপি মুন্সি আতিকুর রহমান এবং এএসপি আবদুর রশিদ বর্তমানে কারাগারে আছেন। এ তিনজন বিএনপি সরকারের সময় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ছিলেন।
মোহাম্মদ হানিফ : গ্রেনেড হামলা মামলার মৃত্যুদÐপ্রাপ্ত আসামি হানিফ এন্টারপ্রাইজের মালিক মোহাম্মদ হানিফ ভারতে পলাতক রয়েছে বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি সূত্র জানায়।
রাতুল বাবু : গ্রেনেড হামলা মামলার আরাক মৃত্যুদÐপ্রাপ্ত আসামি রাতুল বাবু ভারতে পলাতক রয়েছে বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি সূত্র জানায়।

What's Your Reaction?

like
0
dislike
0
love
0
funny
0
angry
0
sad
0
wow
0