‘বিশ্বশান্তি আমার জীবনদর্শনের মূলনীতি’

‘বিশ্বশান্তি আমার জীবনদর্শনের মূলনীতি’

পাকিস্তানি হানাদারমুক্ত বাংলাদেশে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি পা রাখেন। লন্ডন থেকে ভারতের রাজধানী দিল্লিতে যাত্রা বিরতিতে ছিল বিপুল সংবর্ধনার আয়োজন। সেখানে তিনি বলেন, বিজয়কে শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির পথে রূপান্তরিত করার যে গুরুদায়িত্ব আমার জনগণের সামনে পড়ে আছে সেই দায়িত্বপালনে জনগণের সঙ্গে যোগদানের জন্য আমি ফিরে যাচ্ছি।

বাঙালির নিজস্ব স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার ধারণা অনেক আগে থেকেই তিনি পোষণ করছিলেন। জাতীয় অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির জন্য এর বিকল্প নেই, সেটা যেমন বুঝেছিলেন–তেমনি বিশ্বব্যাপী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য এর অপরিহার্যতা তিনি উপলব্ধি করেন। পাকিস্তান পঞ্চাশের দশকেই যুক্তরাষ্ট্রের কুখ্যাত সামরিক জোট সিয়াটো ও সেন্টো এবং পাক-মার্কিন সামরিক জোটে জড়িয়ে পড়ে। বাংলাদেশ সে সময়ে পাকিস্তানের অংশ এবং দুর্ভাগ্যজনক যে যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তানের অশুভ আঁতাতের চরম খেসারত দিতে হয়েছে আমাদের। পাকিস্তানের সামরিক জান্তাকে যুক্তরাষ্ট্র যে অস্ত্র ও অর্থ সাহায্য দিয়েছে তা ব্যবহার করা হয়েছে বাংলাদেশে গণহত্যা পরিচালনার জন্য।

গোটা বিশ্বে এবং বিভিন্ন অঞ্চলে শান্তি বিঘ্ন করার যেকোনো কার্যক্রমের বিরোধী ছিলেন বঙ্গবন্ধু। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহ অভিজ্ঞতাও তার স্মরণে ছিল। ১৯৪২ সনে গোপালগঞ্জের নিভৃত গ্রাম থেকে তিনি কলিকাতায় ইসলামিয়া কলেজে পড়তে যান। বিশ্বযুদ্ধের কারণে এ শহরসহ ভারতবর্ষের বিভিন্ন এলাকায় তখন জাপানি বোমা পড়ছে। অন্যদিকে, ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদী শাসকদের অন্যায় ও ভ্রান্ত নীতির কারণে বাংলার বুকে নেমে এসেছিল দারুণ হাহাকার। লাখ লাখ মানুষের প্রাণ ঝরে গেছে না খেয়ে।

শান্তির জন্য ব্যাকুলতা বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক দর্শনের অপরিহার্য অংশ হয়ে ওঠে। রাজনৈতিক লক্ষ অর্জনের জন্যও তিনি শান্তিপূর্ণ পথে অগ্রসর হয়ে চেয়েছিলেন। ১৯৭০ সালের ডিসেম্বরের নির্বাচনে তিনি ছিলেন পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা। কিন্তু তার হাতে ক্ষমতা না দিয়ে জাতীয় পরিষদ অধিবেশন অনির্দিষ্টকাল স্থগিত ঘোষণা করে শুরু হয় কুখ্যাত অপারেশন সার্চ লাইট বাস্তবায়নের প্রস্তুতি। ১ মার্চ থেকেই পাকিস্তানি বর্বর আর্মি বাঙালিদের হত্যা করতে থাকে নির্বিচারে। কিন্তু বঙ্গবন্ধু শুরু করেন শান্তিপূর্ণ অসহযোগ আন্দোলন। ১ মার্চ থেকেই বাংলাদেশ ভূখণ্ডের প্রশাসন, অর্থনীতি, আইন শৃঙ্খলা–সবকিছু চলছে তার নির্দেশে। ধানমন্ডি ৩২ নম্বর সড়কের ৬৭৭ নম্বর বাড়িটি পরিণত হয়েছে ক্যান্টনমেন্ট ও গভর্নর হাউসের পাল্টা ও পরিপূর্ণ ক্ষমতার কেন্দ্রে। পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান ১৫ মার্চ ঢাকা এলে তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্বও আইন শৃঙ্খলা বাহিনী পালন করে তার নির্দেশে। এখানে সেখানে পাকিস্তান আর্মি নিরস্ত্র জনগণের ওপর সামরিক অভিযান পরিচালনা করছে। বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে জনগণ ‘যার যা আছে তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবেলার’ জন্য নবউত্থিত বাংলাদেশের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে দিকে দিকে। বঙ্গবন্ধু শত্রুর ওপর হামলা পরিচালনার নির্দেশ দেননি। গোটা বিশ্বের শান্তিকামী মানুষ অবাক বিস্ময়ে দেখেছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তখনই বাংলাদেশের স্বাধীনতাও ঘোষণা করেন এবং সর্বাত্মক প্রতিরোধের আহ্বান জানান যখন পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ট্যাঙ্ক, কামান, মেশিনগান ও রাইফেল নিয়ে নিরস্ত্র নারী-পুরুষ-শিশুদের হত্যার জন্য অভিযান শুরু করে।

অথচ বাঙালির প্রিয় নেতা ১০ জানুয়ারি স্বদেশে ফিরে বলেন, তোমরা আমার লক্ষ লক্ষ মানুষকে হত্যা করেছ, মা-বোনদের ইজ্জত লুণ্ঠন করেছ, অসংখ্য ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দিয়েছ এবং আমার এক কোটি মানুষকে তাড়িয়ে ভারতে আশ্রয় নিতে বাধ্য করেছে। এরপরও তোমাদের প্রতি আমি কোনোরূপ বিদ্বেষ পোষণ করি না।

এমন মানবিক, উদারচিত্তের নেতাকে বিশ্ববাসী গভীর শ্রদ্ধা ও সম্মানের দৃষ্টিতে দেখবে, এটাই স্বাভাবিক। ১৯৭২ সালের অক্টোবর মাসে যখন চিলির রাজধানী সান্টিয়াগোতে বিশ্ব শান্তি পরিষদ বিশ্ব শান্তি ও জাতীয় মুক্তি আন্দোলনে অনন্য অবদানের জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে জুলিও কুরি শান্তি পদক প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে, সেটা আকস্মিক ছিল না। নোবেল পুরস্কার বিজয়ী ফরাসী বিজ্ঞানী ফ্রেডরিক জুলিও কুরি ছিলেন বিশ্ব শান্তি পরিষদের পুরোধা ব্যক্তি। তার স্মৃতির প্রতি সম্মান প্রদর্শনে প্রবর্তিত পুরস্কার বঙ্গবন্ধুকে প্রদানের জন্য ঢাকায় এসেছিলেন শান্তি পরিষদ মহাসচিব রমেশ চন্দ্র। অনুষ্ঠানে বিশ্বের নানা প্রান্তের শান্তি আন্দোলনের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। ২৩ মে জাতীয় সংসদের উত্তর প্লাজায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুকে পদক পরিয়ে দেওয়ার সময় রমেশ চন্দ্র বলেন, শেখ মুজিব শুধু বঙ্গবন্ধু নন, বিশ্ববন্ধুও।

বঙ্গবন্ধু তার ভাষণে বলেছিলেন, জুলিও কুরি শান্তি পদক কোনো ব্যক্তি বিশেষের সম্মান নয়। এ সম্মান বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে আত্মদানকারী শহীদদের, স্বাধীনতা সংগ্রামের বীর সেনানীদের, সমগ্র বাঙালির। তিনি বলেন, ত্রিশ লক্ষ শহীদের প্রাণের বিনিময়ে আমরা ছিনিয়ে এনেছি স্বাধীনতা। আমাদের কাছে শান্তি আর স্বাধীনতা একাকার হয়ে মিশে গিয়েছে।

বঙ্গবন্ধু শান্তিকামীদের আন্তর্জাতিক সমাবেশে বিশ্ব শান্তির জন্য তার সক্রিয় ভূমিকার কথাও স্মরণ করেন। ১৯৫২ সালে তিনি পিকিংয়ে প্রথম এশীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় আঞ্চলিক সম্মেলনে পাকিস্তান প্রতিনিধি দলের সক্রিয় সদস্য ছিলেন। কিছুদিন আগে প্রকাশিত বঙ্গবন্ধুর লেখা ‘আমার দেখা গণচীন’ গ্রন্থে এ সম্মেলনের বিষদ বিবরণ রয়েছে। মাত্র ৩২ বছর বয়স তার। কিন্তু তিনি পরিণত হয়েছিলেন আন্তর্জাতিক সম্মেলনের অন্যতম আকর্ষণে। পশ্চিম বাংলা থেকে খ্যাতিমান লেখক মনোজ বসু ওই সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন। স্মৃতিচারণে তিনি লিখেছেন, কেউ আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বাংলায় ভাষণ দেবে, এটা ছিল অভাবনীয়। মাত্র কয়েক মাস আগে আগে বাংলা ভাষার জন্য পূর্ব বাংলার ছাত্র-জনতা একুশে ফেব্রুয়ারির অমর বীরত্ব গাঁথা রচনা করেছে। এ মহৎ আন্দোলনের পুরোধা ব্যক্তি শেখ মুজিবের জন্য এটাই ছিল স্বাভাবিক।

বঙ্গবন্ধু স্টকহোমে ১৯৫৬ সালের ৫-৯ এপ্রিল অনুষ্ঠিত বিশ্ব শান্তি পরিষদের সম্মেলনেও পাকিস্তান প্রতিনিধি দলের সদস্য ছিলেন। তার মতো অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি যেন সম্মেলনে অংশ নেন, বিশ্ব শান্তি পরিষদ কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব সেটা আন্তরিকভাবে চেয়েছিল।

বঙ্গবন্ধু জুলিও কুরি পদক গ্রহণ অনুষ্ঠানে আরও বলেন, বিশ্বশান্তি আমার জীবনদর্শনের মূলনীতি। নিপীড়িত, নির্যাতিত, শোষিত, শান্তি ও স্বাধীনতাকামী মানুষ যেকোনো স্থানেই হোক না কেন, আমি তাদের সঙ্গে আছি। তিনি অস্ত্র প্রতিযোগিতা বন্ধের আহ্বান জানিয়ে সেই অর্থ দুনিয়ার দুঃখী মানুষের কল্যাণে ব্যয়ের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, পৃথিবী থেকে দারিদ্র্যের অভিশাপ মুছে ফেলার কাজ এর ফলে সহজ হবে।

বিশ্বের বর্তমান দুঃসময়ে, যখন করোনাভাইরাস মানবজাতির সহস্র সহস্র বছরের অর্জনকেই শুধু নয়, অস্তিত্বকেই চ্যালেঞ্জের মুখে এনে দাঁড় করিয়েছে, তখন আমরা বঙ্গবন্ধুর দূরদর্শিতার কথা স্মরণ করে তার প্রতি শ্রদ্ধায় অবনত হতে পারি। সবার জন্য স্বাস্থ্য–এ স্লোগান ছিল বঙ্গবন্ধুর। আমরা সে লক্ষ্য এখনও অর্জন করতে পারিনি। যার অঢেল অর্থ রয়েছে, জীবনের অধিকার কেবল তার–এ ধারণা নিয়েই অনেক দেশ চলেছে। শিক্ষা দর্শনেও দেশে দেশে এর প্রতিফলন। বঙ্গবন্ধু প্রতিটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে এ ভ্রান্ত দর্শনের বিরুদ্ধে নিজের বলিষ্ঠ অভিমত ব্যক্ত করেছেন। ১৯৭৩ সালের সেপ্টেম্বরে আলজেরিয়ায় অনুষ্ঠিত জোট নিরপেক্ষ সম্মেলনে তিনি বলেছেন, বিশ্ব দুই ভাগে বিভক্ত–শোষক ও শোষিত। আমি শোষিতের পক্ষে। সম্মেলনে শতাধিক দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও প্রধানমন্ত্রীরা অংশ নিয়েছিলেন। কিন্তু সদ্যস্বাধীন একটি দেশের নেতা হয়ে উঠেছিলেন প্রধান আকর্ষণ।

এ সম্মেলনের ঠিক এক বছর পর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ বঙ্গবন্ধু অংশ নেন বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতা হিসেবে। ২৫ সেপ্টেম্বর তিনি বাংলায় ভাষণ দেন সাধারণ পরিষদ অধিবেশনে। বিশ্বসভায় বাংলায় ভাষণ প্রদানের দিনটি আজ ইতিহাসের অংশ। জাতিসংঘ আমাদের জাতীয় ইতিহাসের অনন্য দিন ২১ শে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষণা করেছে। আর বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার আহ্বান জানানো ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ।

বঙ্গবন্ধু তার ভাষণে বলেন, বাংলাদেশের অভ্যুদয় এ উপমহাদেশে শান্তির কাঠামো ও স্থায়িত্ব প্রতিষ্ঠায় অবদান রাখবে। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও সম্পদ-প্রযুক্তির শরিকানা মানুষের দুঃখ-দুর্দশা হ্রাস করবে এবং আমাদের কর্মকাণ্ড সহজ করবে।

বঙ্গবন্ধুর জামাতা অধ্যাপক এম এ ওয়াজেদ মিয়া ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে ঘিরে কিছু ঘটনা বাংলাদেশ’ গ্রন্থে লিখেছেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে কোনো দেশের রাষ্ট্র বা সরকার প্রধান প্রথমবার ভাষণ প্রদান করলে তাকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ওয়াশিংটনে স্বাগত জানান, এটা ছিল প্রথা। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের কাছে তাদের পরম বন্ধু রাষ্ট্র পাকিস্তানের নিঃশর্ত সামরিক পরাজয় ও আত্মসমর্পনের গ্লানি তখনও ভুলতে পারেনি। এ কারণে প্রেসিডেন্ট জেরাল্ড ফোর্ড বঙ্গবন্ধুকে স্বাগত জানাতে উৎসাহী ছিলেন না। কিন্তু বঙ্গবন্ধু ছিলেন অনমনীয়। শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট তাকে হোয়াইট হাউসে স্বাগত জানাতে বাধ্য হন।

এ সাক্ষাতের কয়েকদিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জার বাংলাদেশকে ইন্টারন্যাশনাল বাস্কেট কেস হিসেবে অভিহিত করেছিলেন। বঙ্গবন্ধু এ অনাকাঙ্ক্ষিত ও অবাঞ্ছিত মন্তব্যের উপযুক্ত জবাব প্রদানের সুযোগের অপেক্ষায় ছিলেন। প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাতের পর ওয়াশিংটনে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, কেউ কেউ বাংলাদেশকে ইন্টারন্যাশনাল বাস্কেট কেস বলে উপহাস করেন। কিন্তু বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল বাস্কেট কেস নয়। দু’শ বছর ধরে বাংলার সম্পদ লুট করা হয়েছে। বাংলাদেশের সম্পদেই শ্রীবৃদ্ধি করা হয়েছে লন্ডন, ড্যান্ডি, ম্যাঞ্চেস্টার, করাচি, ইসলামাবাদের।… আজও বাংলাদেশের অফুরন্ত সম্পদ রয়েছে। একদিন আমরা দেখাবো বাংলাদেশ নিজের পায়ে দাঁড়িয়েছে।

বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন সফল হতে চলেছে। বাংলাদেশ নিজের পায়ে দাঁড়াতে শিখেছে। এ ক্ষেত্রে ভয়ঙ্কর বাঁধা হিসেবে উপস্থিত করোনাভাইরাস। কিন্তু ১৯৭১ সাল তো ছিল আমাদের কাছে করোনাকালের মতোই ভয়ঙ্কর। সেটা আমরা জয় করেছি বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান করোনাকালও আমরা জয় করব, সন্দেহ নেই।

What's Your Reaction?

like
0
dislike
0
love
0
funny
0
angry
0
sad
0
wow
0