বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য নিজের পরিবারের কথাও ভাবেননি বঙ্গবন্ধু

বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য নিজের পরিবারের কথাও ভাবেননি বঙ্গবন্ধু
বিচারপতি ছিদ্দিকুর রহমান
সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা তারই সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই গড়ে উঠবে। এছাড়া নতুন প্রজন্মকে বঙ্গবন্ধুকে জানতে সঠিক ইতিহাস জানতে হবে। এজন্য বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী, কারাগারের রোজনামচা এবং আমার দেখা নয়াচীন বইগুলো নিয়মিত পড়তে হবে। দৈনিক ভোরের পাতার নিয়মিত আয়োজন ভোরের পাতা সংলাপে এসব কথা বলেন আলোচকরা।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই, ২০২০) ভোরের পাতা সংলাপে আলোচক হিসাবে উপস্থিত ছিলেন সুপ্রীম কোর্টের আপীল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ছিদ্দিকুর রহমান মিয়া, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক ও সংসদ সদস্য অসীম কুমার উকিল এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপ-উপাচার্য ড. মুহাম্মদ সামাদ। দৈনিক ভোরের পাতার সম্পাদক ও প্রকাশক ড. কাজী এরতেজা হাসানের পরিকল্পনা ও নির্দেশনায় অনুষ্ঠানটির সঞ্চালক ছিলেন সাবেক তথ্য সচিব নাসির উদ্দিন।
বিচারপতি ছিদ্দিকুর রহমান বলেন, আমি প্রথমেই স্মরণ করি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। যার নেতৃত্বে আমরা লাল সবুজের একটি পাতাকা পেয়েছি। ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান স্বাধীন হওয়ার পর আমরা চেয়েছিলাম নায্যতার ভিত্তিতে অধিকার পাবো। কিন্তু মাত্র ৩ বছর পর জিন্নাহ ঢাকায় এসে রাষ্ট্রভাষা উর্দু করার ঘোষণা দিলে বঙ্গবন্ধুই প্রতিবাদ করেছিলেন। এরপর ৫৪ এর যুক্তফ্রন্টের নির্বাচন, ৬৬ সালে বাঙালির মুক্তির সনদ ছয় দফা দাবি, ৬৯ এর গণঅভ্যুন্থান এবং ৭১ সালে সুমহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশ পেয়েছি। এই সব কিছুরই নায়ক ছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। এরপর স্বাধীন দেশে ফিরে দেশ গড়ার কাজ করছিলেন। কিন্তু ৭৫ এর ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে হত্যা করে পাকিস্তানের আদর্শ স্বাধীন বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছিল। কিন্তু তা সফল হয়নি। বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা আজকের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতায় এসে ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ আইন বাতিল করে বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারী এবং মানবতাবিরোধী অপরাধে রাজাকার-আলবদরদের বিচার করেছেন। এছাড়া বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আমরা তার সর্বাঙ্গীন মঙ্গল কামনা করছি।
তিনি আরো বলেন, বঙ্গবন্ধু সারাজীবন এই বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য কাজ করে গেছেন। তিনি যখন বুঝতে পারলেন পাকিস্তান স্বাধীন হয়েছে ঠিকই কিন্তু পূর্ব পাকিস্তানের মানুষ তাদের অধিকার পাবে না। তখনই তিনি আন্দোলন শুরু করেন। ৭০ এর নির্বাচনে জয় লাভের পরও তিনি যখন ক্ষমতায় বসতে পারেননি, তখনই এক দফা বাংলাদেশের স্বাধীনতার আন্দোলন শুরু করেন। আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা থেকে জনগণের চাপে যখন মুক্তি দেয়া হয়, তখন আমি ছাত্রলীগের কর্মী হিসাবে তার বাড়ির সামনে গিয়েছিলাম। কিন্তু লেকের ওপাড়ে সেনাবাহিনী অস্ত্র তাক করে রেখেছিল। তিনি সেদিন বলেছিন, এদেশের মানুষের মুক্তির জন্য কাজ করছি। জীবনের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে হলে বাংলার মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করবেন। তিনি তার পরিবারের কথাও ভাবেননি। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ সোনার বাংলা গড়ার জন্য আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতকে আমরা শক্তিশালী করবো। যেন তার নেতৃত্বেই বাংলাদেশ যেন বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলায় পরিণত হয়।
ভোরের পাতা ২ জুলাই, ২০২০

What's Your Reaction?

like
0
dislike
0
love
0
funny
0
angry
0
sad
0
wow
0