বাঙালির স্বাধিকার অর্জনে স্বপ্নদ্রষ্টা : বঙ্গবন্ধু ও নজরুল

বাঙালির স্বাধিকার অর্জনে স্বপ্নদ্রষ্টা : বঙ্গবন্ধু ও নজরুল

১৭ই মার্চ ১৯২০ সাল। এ দিনে জন্মগ্রহণ করেছিল বাঙালির শ্রেষ্ঠ সন্তান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর আজ শততম জন্মবার্ষিকী। এ মাহেন্দ্রক্ষণে পৃথিবীর সকল মানুষের পক্ষ থেকে জাতির পিতার প্রতি রইলো অন্তরের গভীরতম শ্রদ্ধাঞ্জলি। তাঁর নেতৃত্বে পরাধীন বাঙালি পেয়েছে তার কাঙ্খিত স্বাধীনতা। অন্নদাশঙ্কর রায়ের সাথে কণ্ঠ মিলিয়ে বলতে চাই- ‘যতদিন রবে পদ্মা-মেঘনা-গৌরী, যমুনা বহমান/ততকাল রবে কীর্তি তোমার শেখ মুজিবর রহমান’/ অথবা কবি নির্মলেন্দু গুণের ভাষায়-‘মুজিব মানে আর কিছু না/মুজিব মানে মুক্তি/ পিতার সাথে সন্তানের ওই না লেখা চুক্তি’।

বাঙালির এই স্বপ্নদ্রষ্টার অন্তর্জগত প্লাবিত করেছিল আর এক বিদ্রোহী কবি, প্রেমের কবি, গানের কবি, সাম্যের কবি, মানবতার কবি নজরুল। একজন স্বাধীনতার বীজ বপন করেছেন, অন্যজন জীবন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে তারই বাস্তবায়ন ঘটিয়েছেন। হাজার বছরের বাঙালির সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক জাগরণের প্রশ্নে যাদের নাম অপরিহার্য ভাবে চলে আসে তাঁরা হলেন- ১. কাজী নজরুল ইসলাম ২. বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। দু’ই মহাপ্রাণের জন্ম না হলে বাঙালি আজ পেতে না স্বাধীনতা। দু’জনের মধ্য বয়সের সংখ্যাগত পার্থক্য ছিল ২১ বৎসর। একজন (নজরুল) যখন সৃষ্টিকর্মে উদীয়মান তখন অন্যজনের (বঙ্গবন্ধু) জন্ম। অন্যদিকে আরেকজন (বঙ্গবন্ধু) যখন আন্দোলনের তুঙ্গে তখন অন্যজন (নজরুল) নিভে যাওয়া এক আগ্নেয়গিরি। তাঁরা মননে এক ও অভিন্ন। বিদ্রোহী কবিতার ৯০ বছর পূর্তিতে বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশ-ভারত যৌথ অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির ভাষণে বলেন- ‘বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম এবং বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মানসিকতার দিক থেকে সমান্তরাল অবস্থানে রয়েছেন। (সূত্র: বাংলা নিউজ ২৪.কম, ২৫ মে ২০১২) তিনি অনুষ্ঠানে আরও বলেন, বঙ্গবন্ধুর ইচ্ছা ছিল শোষণহীন বাংলাদেশ গড়া। নজরুলও চেয়েছেন বঞ্চনাহীন অসাম্প্রদায়িক সমাজ গড়তে। দু’জনের স্বপ্ন ছিল এক ও অভিন্ন। দু’জনই ছিলেন বিদ্রোহী, একজন-সাহিত্যে, অন্যজন রাজনীতিতে। (সূত্র: প্রাগুপ্ত)।

বাঙালির স্বাধীনতা অর্জনের প্রয়াসে বঙ্গবন্ধু জীবনব্যাপী নিজেকে উৎসর্গ করেছেন। শেখ মুজিবুর রহমান রচিত “অসমাপ্ত আত্মজীবনী’র ভূমিকায় বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা লিখেন- “তাঁর জীবনে জনগণই ছিল অন্তঃপ্রাণ। মানুষের দুঃখে তাঁর মন কাঁদত। বাংলার দুঃখী মানুষের মুখে হাঁসি ফোটাবেন, সোনার বাংলা গড়বেন- এটাই ছিল তাঁর জীবনের একমাত্র ব্রত। অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য- এই মৌলিক অধিকারগুলো পূরণের মাধ্যমে মানুষ উন্নত জীবন পাবে, দারিদ্র্যের কশাঘাত থেকে মুক্তি পাবে, সেই চিন্তাই ছিল প্রতিনিয়ত তাঁর মনে। যে কারণে তিনি নিজের জীবনের সব সুখ আরাম আয়েশ ত্যাগ করে জনগণের দাবি আদায়ের জন্য এক আদর্শবাদী আত্মত্যাগী রাজনৈতিক নেতা হিসেবে আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন। বাঙালি জাতিকে দিয়েছেন স্বাধীনতা। বাঙালির হাজার বছরের স্বপ্ন সফল করেছেন’।

বাঙালির স্বাধিকারের অসামান্য চিত্রকল্প তৈরি করেছেন বঙ্গবন্ধু তাঁর ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণে- ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম/ এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’। বীরের মত আরও বলেন- ‘রক্ত যখন দিয়েছি আরও দেবো/এ দেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়ব, ইনশাআল্লাহ। আমি প্রধানমন্ত্রিত্ব চাই না, মানুষের অধিকার চাই…। এরপর যদি একটা গুলি চলে, এরপর যদি আমার লোককে হত্যা করা হয়- তোমাদের কাছে আমার অনুরোধ রইল, প্রত্যেক ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোল। তোমাদের যা কিছু আছে তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবেলা করতে হবে এবং জীবনের তরে রাস্তা-ঘাট যা কিছু আছে সবকিছু। আমি যদি হুকুম দেবার নাও পারি তোমরা বন্ধ করে দেবে…।’

বঙ্গবন্ধুর এই ভাষণটি শোনা বা দেখা মাত্রই প্রতিটি মানুষের অন্তরে-অনুভবে এক বিদ্যুতাবেগ সৃষ্টি করে। তাৎক্ষণিক ভাবে-সৃষ্টি হয় অধিকার আদায়ের এক চিত্রকল্প। সেইদিনের রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ বাঙালির প্রাণে সৃষ্টি করে দেশমাতৃকাকে রক্ষা করার এক মহান সংকল্প। বাঙালির ভেতরের শক্তিকে জাগাবার এক সুতীব্র বাসনা ছিল এই ভাষণটিতে। ফলশ্রুতি হিসেবে নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ করে বাঙালি পেয়েছে তার মহান স্বাধীনতা। বাঙালির মুক্তির লক্ষ্যে নজরুল ও একই শপথের বাণী ও শুনিয়েছেন-
বল বীর-
বল উন্নত মম শির।
শের নেহারি’ আমারি নতশির ওই শিখর
হিমাদ্রির। (বিদ্রোহী, অগ্নিবীণা)

নজরুল বিদ্রোহীর উপসংহারে লিখেছেন-
‘মহা-বিদ্রোহী রণ-ক্লান্ত
আমি সেইদিন হব শান্ত,
যবে উৎপীড়িতের ক্রন্দন-রোল আকাশে বাতাসে ধ্বনিবে না (সূত্র: প্রাগুপ্ত)

‘বিদ্রোহী’ কবিতার এই অংশের সাথে ৭ই মার্চের রেসকোর্সের ভাষণের উপসংহার ও একই সূত্রে গ্রোথিত। কবির স্বপ্ন, কবিতা কিভাবে একটি জাতির জীবনে সত্য হয়ে উঠে, বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চ ভাষণ ও বিদ্রোহী কবিতা তার প্রকৃষ্ট উদাহারণ। সেই ধারাবাহিকতায় নির্মলেন্দু গুন লিখেছেন-
“শত বছরের শত সংগ্রাম শেষে, রবীন্দ্রনাথের মত দৃপ্ত পায়ে হেঁটে
অতঃপর কবি এসে জনতার মঞ্চে দাঁড়ালেন।
তখন পলকে দারুণ ঝলকে তরীতে উঠিল জল হৃদয়ে লাগিল দোলা।
জনসমুদ্রে লাগিল জোয়ার সকল দুয়ার খোলা-
কে রোধিতে তাঁহার বজ্রকণ্ঠ বাণী?
[স্বাধীনতা, এই শব্দটি কিভাবে আমাদের হলো, নির্মলেন্দু গুন]

স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় নজরুল জাগরণের গানগুলো প্রতিটি বাঙালিকে উদ্দীপিত হতে সাহায্য করেছিল-
“দুর্গম গিরি কান্তার-মরু, দুস্তর পারাবার হে
লঙ্ঘিতে হবে রাত্রি নিশিথে, যাত্রীরা হুশিয়ার/
দুলিতেছে তরী, ফুলতেছে জল, ভুলিতেছে মাঝি পথ-
ছিড়িয়াছে পাল, কে ধরিবে হাল, আছে কার হিম্মত।
……………………………………………
ফাঁসির মঞ্চে গেয়ে গেল যারা জীবনের জয়গান-
আসি অলক্ষ্যে দাঁড়ায়েছে তারা, দিবে কোন্ বলিদান [নজরুল সংগীত সংগ্রহ, পৃ-২০৪]

গানটির প্রতিটি চরণে জাগরণের এক চিত্রকল্প ফুটে উঠে। অন্যায়-অত্যাচার, শোষণ-নির্যাতন তথা স্বাধিকারের প্রশ্নে মানুষের মনে, চেতনা সৃষ্টির লক্ষ্যে নজরুল এই গানটিতে দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। জাগরণীমূলক, দেশের গানসহ এ রকম অসংখ্য গান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময় ব্যাপকভাবে উদ্বুদ্ধ করে। এ সময় বেতার কেন্দ্রে গণসংগীত হিসেবে গাওয়া হতো-
“কারার ঐ লৌহ-কপাট
ভেঙ্গে ফেল কর রে লোপাট রক্ত-জমাট
শিকল-পূজার পাষাণ-বেদী।
ওরে ও তরুণ ঈশান।
বাজা তোর প্রলয়-বিষান! ধ্বংস-নিশান
উঠুক প্রাচীর-প্রাচীর ভেদি’\ [প্রাগুপ্ত, পৃষ্ঠা-২২১]

নজরুল কৃষক-মজুর-কুলী, ধীবরের গান, গণসংগীত, মার্চ সংগীত, জাতীয় সংগীত, সাঁওতালের গান, মাঝির গান, মল্লার গানসহ অসংখ্যা গান রচনা করেছেন সকল শ্রেণির মানুষের সংস্কৃতিকে প্রকাশ করার জন্য। স্বাধীনতা যুদ্ধে এই সময়টাকে মানুষকে প্রাণিত করার জন্য নজরুলের অসংখ্য গান, সে সময় পরোক্ষভাবে যুদ্ধে প্রভাব ফেলে
“আজি রক্ত নিশি- ভোরে একি এ শুনি ওরে
মুক্তি-কোলাহল বন্দী শৃঙ্খলে,
ঐ কাহারা কারাবাসে মুক্তি-হাসি হাসে,
টুটেছে ভয়-বাধা স্বাধীন হিয়া-তলে
………………………………………
জয় হে, বন্ধন-মৃত্যু-ভয় হব, মুক্তি-কামী জয়!
স্বাধীনতা চিত জয়! জয় হে! জয় হে! জয় হে! [প্রাগুপ্ত, পৃষ্ঠা-৬৮৪}

বঙ্গবন্ধু নজরুলকে ভালবাসতেন। কলকাতার ইসলামিয়া কলেজে অধ্যয়নকালে তিনি নজরুলের কাব্যের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়েন। বঙ্গবন্ধু সুযোগ পেলেই নজরুল রচনাবলী পাঠ করতেন। তাঁর নজরুলের প্রিয় গানের মধ্যে উল্লেখ যোগ্য ছিল-
নমঃ নমঃ নমঃ বাংলাদেশ মম
চির-মনোরম চির মধুর
বুকে নিরবধি বহে শত নদী
চরণে জলধির বাজে নূপুর\ [প্রাগুপ্ত, পৃ-১৩৭]

১৩ই জানুয়ারি ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধুর সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকে নজরুলের চল্ চল্ চল্। চল্ চল চল্। উর্ধ্ব গগণে বাজে মাদল/ নিন্মে উতলা ধরণী-তল/ অরুণ প্রাতের তরুণ-দল/চলরে-চল্ রে চল্/চল্ চল্ চল্ [প্রাগুপ্ত পৃষ্ঠা-২৩৯] এই গানটিকে বঙ্গবন্ধু জাতীয় কুচকাওয়াজ বা রণ-সংগীত হিসেবে নির্বাচন করেন। ১৯৭৪ সালের ৯ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কবিকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি ‘ডি-লিট’ প্রদান করে এবং বঙ্গবন্ধু কবিকে বাঙালির জাতীয় কবি হিসেবে স্বীকৃতি দেন।

নজরুল তাঁর কর্ম জীবনের শেষ প্রান্তে এসে “বাঙালি বাঙলা একটি ঐতিহাসিক রাজনৈতিক তাৎপর্যপূর্ণ-প্রবন্ধ লিখেন। এখানে তিনি বলেন- “বাঙালি যেদিন ঐক্যবদ্ধ হয়ে বলতে পারবে বাঙালির বাংলা সেদিন তারা অসাধ্য সাধন করবে। ড. মুস্তাফা নূরউল ইসলাম এ প্রবন্ধ সম্পর্কে তার মতামত দেন এভাবে- বাঙলা বাঙালির হোক, বাঙলার জয় হোক, তিরিশ বছর পূর্বে বাঙালির জীবনের ভবিষ্যতকে নজরুল এভাবেই প্রত্যক্ষ করতে সমর্থ হয়েছিলেন। (মাহমুদুল বাসার, সিরাজুদৌল্লা থেকে শেখ মুজিব, পৃষ্ঠা-৭৭) নজরুলের স্বপ্ন মুজিবে এসে বাস্তব রুপ লাভ করে। এ ক্ষেত্রে নজরুল ও বঙ্গবন্ধু স্বতন্ত্র হয়েও সম্পূরক।
নজরুল লিখেন-
এই পবিত্র বাংলাদেশ
বাঙালির-আমাদের
দিয়া ‘প্রহারণে ধনঞ্জয়’
তাড়াব আমরা, করি না ভয়
যত পরদেশী, দস্যু ডাকাত
‘রামা’দের ‘গামা’দের।
বাংলা বাঙালির হোক। বাংলার জয় হোক। বাঙালির জয় হোক। [মাহমুদুল বাসার, প্রাগুপ্ত পৃ- ৮৬-৮৭]

নজরুল সকল মানুষকে সম-মর্যাদায় দেখেছেন। স্বাধীন দেশের প্রতিটি নারী-পুরুষ যেন সমান মর্যাদায় বাস করতে পারে সেই দৃষ্টিভঙ্গি নজরুল ও বঙ্গবন্ধু উভয়ের মধ্যেই ছিল। নজরুল লিখেছেন-
“কোন রণে কত খুন দিল নর, লেখা আছে ইতিহাসে,
কত নারী দিল সিঁথির সিঁদুর, লেখা নাই তার পাশে”

নারী-পুরুষের বৈষম্য রোধে বঙ্গবন্ধু ও নবলদ্ধ রাষ্ট্রের সংবিধানে নারী-পুরুষের সম-অধিকার দিয়েছেন। নজরুল বারাঙ্গনার প্রশস্তি গেয়েছেন ও বলেছেন- অসৎ মায়ের সন্তান যদি হয় জারজ, তাহলে অসৎ পিতার সন্তান জারজ হবে- এটা সুনিশ্চিত। বঙ্গবন্ধু লাঞ্ছিতা নারীকে সম্বোধন করেছেন বীরঙ্গনারুপে।

ব্রিটিশ শাসিত সময়ে নজরুল ও বঙ্গবন্ধুর জন্ম। ব্রিটিশ শাসকগণের বিরুদ্ধে নজরুলের বিদ্রোহাত্মক লেখনী তাদের অনুকূলে না যাবার কারণে তাঁর একের পর এক বই বাজেয়াপ্ত করা হয়। তাঁকে জেলেও পাঠানো হয়। বঙ্গবন্ধু ও ছাত্র-জীবন থেকেই বহুবার জেল খেটেছেন। দু’জনের ঐক্যসূত্র এক জায়গায়, দু’জনই মানুষের মুক্তি চেয়েছেন।

এ বিষয়ে সরদার ফজলুল করিমের উক্তিটি প্রাসঙ্গিক-
শেখ মুজিব কতখানি ভাষাতাত্ত্বিক ছিলেন তা আমি জানিনে। কিন্তু সংগ্রামী মুজিব অবচেতনভাবে হলেও অনুভব করেছিলেন স্বাধীনতার চাইতে ব্যাপকতর তাৎপর্যের শব্দ হচ্ছে মুক্তি। স্বাধীনতার যদি ভৌগোলিক সীমা চৌহুদ্দি থাকে, মুক্তি অতিক্রম করে যায় সকল সীমাকে; মুক্তি বঞ্চনা থেকে, মুক্তি বৈষম্য থেকে, মুক্তি শোষণ থেকে, মুক্তি সংকীর্ণতা থেকে, কূপমণ্ডকতা থেকে, মুক্তি সকল দীনতা থেকে। মানুষের জীবনে এর চাইতে মহৎ স্বপ্ন আর কি হতে পারে। সেই মহৎ স্বপ্ন উচ্চারিত হয়েছিল সেদিনকার সংগ্রামী মানুষের নিশান বরদার শেখ মুজিবের কণ্ঠে।

সুজলা-সুফলা-শস্য-শ্যামলা এই বাংলার স্বাধীনতার ইতিহাস এতো ব্যঞ্জনা পেত না, যদি দু’ই ’মহৎ প্রাণের জন্ম হতো। এ দু’জন বাঙালির ইতিহাসকে মনে প্রাণে ধারণ করতে পেরেছেন এবং জীবন উৎসর্গ করেছিলেন বলেই আজ আমরা স্বাধীন বাংলাদেশের স্বাধীন নাগরিক হতে পেরেছি। যতদিন থাকবে এ বাঙলা এই দু’ই মহা প্রাণ ততদিন বাঙালির অন্তরে-অনুভবে চিরভাস্বর হয়ে থাকবে।

সম্পা দাস, শিক্ষক, নজরুল সংগীত শিল্পী ও নজরুল গবেষক।

জাগোনিউজ২৪.কম ১৭ মার্চ ২০২০

What's Your Reaction?

like
0
dislike
0
love
0
funny
0
angry
0
sad
0
wow
0