বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে জানা-অজানা কিছু তথ্য

বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে জানা-অজানা কিছু তথ্য

মাত্র ১৩ বছর বয়সে ৩ বছরের ফজিলাতুন্নেসার সঙ্গে বিয়ে ঠিক হয় বঙ্গবন্ধুর। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের বয়স যখন মাত্র ১৩ বছর এবং বেগম ফজিলাতুন্নেসার বয়স যখন মাত্র ৩, তখন পরিবারের অভিভাবকেরা তাঁদের বিয়ে ঠিক করেন। তারা উভয়ই ছিলেন চাচাতো ভাই বোন। ৫ বছর বয়সে বেগম ফজিলাতুন্নেসার পিতা মারা গেলে বঙ্গবন্ধু এবং বেগম ফজিলাতুন্নেসা দুজনেরই দাদা শেখ আব্দুল হামিদ তার ছেলে শেখ লুৎফর রহমানের প্রতি আহŸান জানান যেন তিনি তার ছেলে শেখ মুজিবকে বেগম ফজিলাতুন্নেসার সঙ্গে বিয়ে দেন। বঙ্গবন্ধুর বয়স যখন ১৮ বছর তখন ১৯৩৮ সালে তাদের অনানুষ্ঠানিক বিয়ে হয়।আনুষ্ঠানিক বিয়ে হয় ১৯৪২সালে। বেগম মুজিবের থেকে বঙ্গবন্ধুর বয়সের ব্যবধান ছিল ১০ বছর। এ দম্পতি দুই কন্যা, শেখ হাসিনা এবং শেখ রেহানা, এবং তিন পুত্র, শেখ কামাল, শেখ জামাল এবং শেখ রাসেলের জন্ম দেন। শেখ হাসিনা বর্তমানে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।
৫ ফুট ১১ ইঞ্চি উচ্চতার মুজিব ছিলেন একজন পাহাড়সম ব্যক্তিত্ব আমাদের দেশের রাজনীতির ইতিহাসের একজন পাহাড়সম ব্যক্তি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন ৫ ফুট ১১ ইঞ্চি উচ্চতার। এধরণের উচ্চতা একজন সাধারণ বাংলাদেশির মধ্যে অনুপস্থিত ছিলো। ১৯৭১ সালের ৫ এপ্রিল নিউজউইক সাময়িকীর প্রচ্ছদে বঙ্গবন্ধুর ছবি দেয়া হয়। সাময়িকীটির প্রচ্ছদে একটি অনুচ্ছেদে উল্লেখ করা হয়, ‘একজন বাঙালি হিসেবে বেশ লম্বা (তাঁর উচ্চতা ৫ ফুট ১১ ইঞ্চি), ধূসর চুলের অধিকারী, ঘন গোঁফসমৃদ্ধ এবং কালো চোখের অধিকারী মুজিব তার র‌্যালিগুলোতে লাখো মানুষকে আকর্ষণ করতে পারেন। এবং তাদের তাঁর অসাধারণ আবেগী বক্তৃতাগুলোর মাধ্যমে মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখতে পারেন। তিনি একজন রাজনীতির কবি। এবং তার কথা বলার ধরনও রাজনৈতিক কবির মতোই, যার মাধ্যমে তিনি শ্রেণি এবং দর্শন ভেদে সকল ব্যক্তিকেই এক করতে পেরেছিলেন।’
তার সুবিশাল ব্যক্তিত্বের সঙ্গে তার ক্যারিশমা এবং তার আত্মবিশ্বাস বেশ সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিলো। তার এ বৈশিষ্ঠ্যগুলো তাকে অন্যান্য আন্তর্জাতিক ব্যক্তিদের সঙ্গে আলাদাভাবে গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করতে সাহায্য করবে। যেমন ফিদেল ক্যাস্ট্রো, মার্শাল টিটো, হেনরি কিসিঞ্জার, আন্দ্রে মারলাওক্স, কার্ট ওয়াল্ডহেইম, নে উইন, কর্নেল গাদ্দাফি, মোতুবো এমনকি জুলফিকার ভুট্টোও। বঙ্গবন্ধুকে হিমালয়ের সঙ্গে তুলনা করেন ফিদেল ক্যাস্ট্রো ১৯৭৩ সালে আলজিয়ার্সে অনুষ্ঠিত জোট নিরপেক্ষ সম্মেলনে কিউবার অমর বিপ্লবী ফিদেল ক্যাস্ট্রোর সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর সাক্ষাৎ ঘটে। বঙ্গবন্ধুকে আলিঙ্গন করে ক্যাস্ট্রো বলেন, ‘আমি হিমালয় দেখিনি। কিন্তু আমি বঙ্গবন্ধুকে দেখেছি। তার ব্যক্তিত্ব এবং সাহস হিমালয়ের মতোই। এভাবেই আমার হিমালয়কে দেখার অভিজ্ঞতা হয়।’
তিনি ছিলেন কর্মতৎপর এবং ক্রীড়ামোদী ব্যক্তি ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হয়তো পড়াশোনায় নিজেকে আলাদাভাবে চেনাতে সক্ষম হননি, কিন্তু তাকে তার শিক্ষক এবং বন্ধুরা অনেক পছন্দ করতেন। গ্রামীণ আবহে বেড়ে ওঠা বঙ্গবন্ধুর খেলাধুলার প্রতি বেশ আগ্রহ ছিলো। তিনি তার গ্রামে নদী, গাছপালা এবং পাখির ডাকের মধ্যে বেড়ে ওঠেন। তিনি তার দাদা-দাদীদের দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে বেশ সমৃদ্ধ হন। তিনি নদীতে সাঁতার কাটেন, মাঠে খেলাধুলা করেন, বৃষ্টিতে গোসল করেন, মাছ ধরেন এবং পাখির বাসা খুঁজে বেড়ান। তিনি ছিলেন বেশ রোগা এরপরও তিনি ফুটবল খেলে বেড়াতেন,’ ১৯৯৮ সালের ১২ জুন এশিয়াউইক সাময়িকীর একটি বিশেষ সংখ্যায় ‘মুজিবুর রহমান’ শিরোনামে একটি লেখায় নিজের বাবার ছেলেবেলাকে এভাবেই বর্ণনা করেন শেখ হাসিনা। এই বিশেষ সংখ্যায় এশিয়ার নতুন যুগের নেতা, যোদ্ধা, জাতির পিতা এবং শহীদ ব্যক্তিদের নিয়ে লেখা প্রকাশিত হয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনের বিভিন্ন ঘটনার টাইমলাইন:-
১৯৩৪-চোখের আঘাতের কারণে প্রায় অন্ধ হতে বসেছিলেন। ১৯৩৯-প্রথমবারের মত শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হক ও হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর সঙ্গে সাক্ষাৎ। ১৯৪২-আনুষ্ঠানিকভাবে চাচাতো বোন বেগম ফজিলাতুন্নেসার সঙ্গে বিয়ে। ৪ জানুয়ারি ১৯৪৮-পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগ যুগ্মভাবে প্রতিষ্ঠা। ১৭ মার্চ ১৯৪৮-ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণীর কর্মকর্তাদের অধিকার নিয়ে আন্দোলন । ৬ মার্চ ১৯৪৯- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিস্কৃত।
২৩ জুন ১৯৪৯-নবগঠিত পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগের যুগ্ম সচিব হিসেবে যোগদান। ১৪ ফেব্রæয়ারি ১৯৫২-ভাষা আন্দোলন চলাকালীন জেলে অনশন। জুন ১৯৫৪-যুক্ত ফ্রন্ট নির্বাচনে জয়লাভ করার পর ৭ মাসের কারাবাস। ২১ অক্টোবর ১৯৫৫-১৯৬৬ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে পুননির্বাচিত। ১১ অক্টোবর ১৯৫৮- ১৪ মাসের জন্য রাজনৈতিক বন্দি হিসেবে জেলে আটক।
১ মার্চ ১৯৬৬-আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত। ১৯৬৬- ৬ দফার পক্ষে কথা বলার জন্য বিভিন্ন সময় গ্রেফতার হন। ১৯৬৮ থেকে ২২ ফেব্রæয়ারি ১৯৬৯- আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় গ্রেফতার এবং বিচার। ২৩ ফ্ব্রেæয়ারি ১৯৬৯- তোফায়েল আহমেদ সম্মানসূচক বঙ্গবন্ধু উপাধি দেন। ৭ ডিসেম্বর ১৯৭০- সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ বিজয়ে নেতৃত্ব দেন। ৭ মার্চ ১৯৭১- ঢাকার রমনার রেসকোর্স ময়দানে লাখো মানুষের উপস্থিতিতে ঐতিহসিক ভাষণ দেন। ২৬ মার্চ ১৯৭১-মুক্তিযুদ্ধের শুরুতে গ্রেফতার পশ্চিম পাকিস্তানে সাড়ে নয় মাস কারাবাস। ৮ জানুয়ারি ১৯৭২-পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তি, দুইদিন পর স্বাধীন বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন। ১২ জানুয়ারি, ১৯৭২- রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ।
১৯৭৩-আওয়ামী লীগকে বাংলাদেশের প্রথম সাধারণ নির্বাচনে জয়ের ক্ষেত্রে নেতৃত্বদান। ২৪ সেপ্টেম্বর ১৯৭৪-জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলায় ভাষণ দান। ২৫ জানুয়ারি ১৯৭৫- বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হন এবং সব দলকে একীভূত করে বাকশাল প্রতিষ্ঠা করেন।
১৫ আগস্ট ১৯৭৫- ঢাকার ধানমন্ডি ৩২ নাম্বারে নিজ বাসভবনে পরিবারের অধিকাংশ সদস্যের সঙ্গে তাকে হত্যা করা হয়। গ্রন্থনা- সেজুতি মৌরিন, অনুবাদ- দুর্জয় চক্রবর্তী, সম্পাদনা- দেবদুলাল মুন্না

What's Your Reaction?

like
0
dislike
0
love
0
funny
0
angry
0
sad
0
wow
0