বঙ্গবন্ধু ও শেকড়ের কথা

বঙ্গবন্ধু ও শেকড়ের কথা

গুলশানের হলি আর্টিজান ক্যাফের আঙিনাটা আমার অতি পরিচিত। আমাদের একমাত্র সন্তানের জন্ম এই আঙিনায়– লেকভিউ ক্লিনিকে। বিশ্বাস করতে অবাক লাগে, যে আঙিনায় সন্তানের জন্ম, সেই একই আঙিনায় হত্যার শিকার হল দেশি-বিদেশি এক কুড়ি নিরীহ প্রাণ। বাংলাদেশে বিচ্ছিন্নভাবে এই ধরনের কিছু নৃশংস হত্যাকাণ্ড পূর্বে ঘটলেও এত ব্যাপকভাবে এটাই প্রথম। যারা এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত তারা নিজস্ব ইতিহাস ও কৃষ্টি বর্জিত, সাধারণ জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন, উগ্র ধর্মীয় ও জঙ্গি মূল্যবোধে বিশ্বাসী একদল যুবক।

বিশ্বব্যাপী জঙ্গিবাদের প্রেক্ষাপটে বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক জীবনের দুটি শেকড়ের কথার ওপর আলোকপাত–

এক. ধর্মনিরপেক্ষতা – বিয়িং ইনক্লুসিভ

‘রুটস্‌’ ছবিটি দেখেছেন নিশ্চয়ই? আলেক্স হেলির লেখা। সত্তর দশকের শেষ ভাগে মুক্তি পাওয়া বহু খণ্ডে এক চলচ্চিত্র সিরিয়াল, আমি ছবিটা দেখেছি আশির দশকে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের বাইসেন্টিনিয়ারি হলে। আধুনিক যুগে তথাকথিত সভ্যসমাজ (ঔপনিবেশিক আমেরিকা) বল প্রয়োগে এবং অমানবিক পন্থা অবলম্বনে স্বাধীনচেতা মুক্ত আফ্রিকাবাসীদের কীভাবে কৃতদাসে পরিণত করে তারই ঘটনা। শুরুটা এমন–

অষ্টাদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে পশ্চিম আফ্রিকার মান্ডিনকা নামক এক উপজাতীয় যোদ্ধার সংসারে জন্ম হয় ফুটফুটে এক পুত্রসন্তানের। নাম দেয় কুন্টাকিন্টে।বাবা নবজাত সন্তানকে পাহাড়ের চূঁড়ায় নিয়ে দুহাতের তালুতে আকাশে তুলে বলেন:

“আল্লাহু আকবর।”

চায় সৃষ্টিকর্তার আশীর্বাদ। দৃশ্যটি আমার মনে দাগ কাটে এবং দীর্ঘদিন গেঁথে থাকে আমার স্মৃতিতে।

কুন্টাকিন্টের পিতার মতো আমি আমার নবজাত পুত্রসন্তানকে পারিনি নিয়ে যেতে পাহাড়ের চূঁড়ায়। তবে লেকভিউ ক্লিনিকের বারান্দায় দাঁড়িয়ে তাকে দুহাতের তালুতে নিয়ে মাথার উপর তুলে আমিও ‘আল্লাহু আকবর’ বলে চেয়েছি সৃষ্টিকর্তার আশীর্বাদ।ভাবতে অবাক লাগে, যে আঙিনায় আমার একমাত্র সন্তানকে ‘আল্লাহু আকবর’ বলে বরণ করি, সেই একই আঙিনায় জনগণ-বিচ্ছিন্ন উগ্র ধর্মীয় ও জঙ্গি মূল্যবোধে বিশ্বাসী একদল যুবক নিরীহ মানুষকে হত্যা করে ‘আল্লাহু আকবর’ উচ্চারণে। আমাদের মূল্যবোধের অবক্ষয় কোথায় গিয়ে ঠেকেছে!

যে ধর্ম উদার, মানবিক ও প্রগতিশীল বলে পরীক্ষিত, তার ধারনা দেওয়া হচ্ছে সংকীর্ণমনা, অমানবিক এবং জঙ্গি ভাবাপন্নরূপে। যে মুসলমানদের স্বাগত জানিয়েছে দেশে দেশে যুগে যুগে, আজ তাদের নিষিদ্ধ বা বহিষ্কারের কথা হচ্ছে বিভিন্ন দেশে। মার্কিস প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী ম্যারিন লে পেন, নেদারল্যান্ডসের গার্ট ওয়াইড্‌স, অস্ট্রেলিয়ার সেনেটর পলিন হ্যানসন, কিংবা অস্ট্রেলিয়ার টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব সোনিয়া ক্রুগার একই সুরে কথা বলছেন। তারা বলছেন:

“মুসলমানরা ‘our way of life’-এর প্রতি হুমকি।”

মুসলমানরা এখন বিশ্ব নিরাপত্তার হুমকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত বছরের মাঝামাঝি সময় বিশ্বনন্দিত বলিউড চিত্রতারকা শাহরুখ খানকে ডিটেন করা হয় মার্কিন ইমিগ্রেশনে। গত জুলাই মাসে আমি গিয়েছিলাম তাইওয়ানে এক আন্তর্জাতিক কনফারেন্সে। আমাকেও প্রায় এক ঘণ্টা ডিটেন করে তাইওয়ানের কাউশিয়ং বিমান বন্দরে। তাদের নানা প্রশ্ন: কেন, কোথা থেকে, কী জন্য? ইত্যাদি ইত্যাদি।

আমার অস্ট্রেলিয়ান পাসপোর্ট উল্টেপাল্টে দেখে বারবার। নাম, চেহারা আর পাসপোর্টের রঙের কোথায় যেন একটা গড়মিল! যাহোক, শেষে ‘সরি’ বলে ছেড়ে দেয়।

এসবই হচ্ছে নিরাপত্তার নামে। জনবিছিন্ন ক্ষুদ্র একটি শ্রেণির উগ্র ধর্মীয় জঙ্গি তৎপরতা মুসলমান হিসেবে আমাকে অন্যের কাছে করছে হেয়, আমার ধর্মকে করছে প্রশ্নবিদ্ধ, আর ঠেলে দিচ্ছে বাংলাদেশের উন্নয়নশীল অর্থনীতিকে ধ্বংসের মুখে।

ধর্মভিক্তিক রাজনীতির মাঝে যে মানুষের মুক্তি আসতে পারে না বঙ্গবন্ধু সেটা অনুধাবন করেছিলেন বহু পূর্বেই। ১৯৪৭ সালে ধর্মের নামে ভারত বিভাগ হলেও, ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে তিনি উপলব্ধি করেন– বাঙালি ধর্মে গভীর বিশ্বাসী, ধর্মের রাজনীতিতে নয়।

“জনগণকে ইসলাম ও মুসলমানের নামে স্লোগান দিয়ে ধোঁকা দেওয়া যায় না। ধর্মপ্রাণ বাঙালি মুসলমানরা তাদের ধর্ম ভালবাসে; কিন্তু ধর্মের নামে ধোঁকা দিয়ে রাজনৈতিক কার্যসিদ্ধ করতে তারা দেবে না।”

(‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’, শেখ মুজিবর রহমান, পৃষ্ঠা ২৫৮,)

১৯৫৫ সালে প্রস্তাব করেন দলের নাম পরিবর্তনের– ‘আওয়ামী মুসলিম লীগ’ থেকে ‘আওয়ামী লীগ’। এটা শুধুই একটি শব্দ বর্জন নয়, এটা একটি সুদূর প্রসারি পদক্ষেপ। যার মাধ্যমে সমাজের সবধর্মীয় জনগণকে স্বাগত জানানো। শুধু দলে নয়, স্বাগত জানানো দেশের সব কর্মকাণ্ডে; এককথায় ‘বিয়িং ইনক্লুসিভ’।

এর আবেদন যেমন ছিল ‘ফিসিক্যাল’ অর্থে, তেমনি ছিল ‘সাইকোলোজিক্যাল’ অর্থে।আবেদনের ব্যাপকতার অর্থে, ‘ফিসিক্যালের’ চেয়ে ‘সাইকোলোজিক্যাল’ আবেদনই ছিল প্রধান। তাই ‘ফিসিক্যাল’ দূরত্বে আশেপাশে না থেকেও ‘সাইকোলোজিক্যাল’ দূরত্বে বঙ্গবন্ধুর পাশে ছিল কোটি কোটি মানুষ। ১৯৭০ নির্বাচনের ফলাফল তারই প্রমাণ।

সমগ্র জাতি যখন ধর্ম-বর্ণের একাত্মতায় এক কাতারে দাঁড়ায়, তখন বহু অসাধ্য সাধন করা সম্ভব, যার প্রমাণ আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধ। ‘বিয়িং ইনক্লুসিভ’ বিশ্বাস থেকেই জন্ম বঙ্গবন্ধুর ধর্মনিরপেক্ষতার রাজনীতি; স্বাধীনতার পর যা অন্তর্ভুক্ত হয় বাংলাদেশের সংবিধানের চার স্তম্ভের এক স্তম্ভে।

আমাদের দুর্ভাগ্য: ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর হত্যার মধ্য দিয়ে পুনর্বহাল করা হয় ধর্মভিক্তিক রাজনীতির। আজকে উগ্র ধর্মীয় যে জঙ্গিপনা দেখছি তা মূলত ১৯৭৫ পর বাংলাদেশে ভুল রাজনীতির ধারাবাহিকতার ফসল। তাই আজ বাংলাদেশের বিভিন্ন ধর্ম-বর্ণের মানুষ ‘ফিসিক্যাল’ দূরত্বে পাশাপাশি থেকেও, ‘সাইকোলোজিক্যাল’ দূরত্বের মাপে একজন অন্যজন থেকে বহুদূরে।

যে সমস্যার সমাধান হয়ে গিয়েছিল সত্তরে, তার জের জাতি এখনও বইছে ২০১৭ সালে দাঁড়িয়ে। বাংলাদেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির প্রচেষ্টায় বঙ্গবন্ধুর ধর্মনিরপেক্ষতার রাজনীতির মাঝে ‘ফিসিক্যাল’ ও ‘সাইকোলোজিক্যাল’ উভয় অর্থেই ‘বিয়িং ইনক্লুসিভ’ হওয়া ছাড়া কোনো পথ আছে কি?

দুই. বিয়িং ইনক্লুসিভ – ভাষা, ইতিহাস, সংস্কৃতির শূন্যতায় মাহাজিরে ‍রূপান্তর

ফুটফুটে কুন্টাকিন্টে ধীরে ধীরে বেড়ে উঠে আফ্রিকার মুক্ত পরিবেশে। যৌবনে পা দিতে না দিতেই একদিন সভ্যসমাজের (আমাদের সংজ্ঞায়) কৃতদাস ব্যবসায়ীদের দ্বারা আক্রান্ত, বন্দি এবং বন্দি অবস্থায় নৌপথে পাচার হয় আমেরিকা। এককথায় হয় দেশান্তর।

শত শত বছরের বাসস্থান ত্যাগে জনগোষ্ঠী রূপান্তরিত হয় ‘মাহাজিরে’। এটা ‘ফিসিক্যাল’ অর্থে। যেমন, কুন্টাকিন্টে দেশান্তরে রূপান্তরিত হয় ‘কৃতদাস মাহাজিরে’।বিদ্রোহ করেও রুখতে পারেনি এ রূপান্তর। তেমনি ১৯৪৭ কোটি কোটি মানুষ শত শত বছরের পূর্বপুরুষের ভিটেমাটি ফেলে ছুটে গেছে পুবে-পশ্চিমে, হয়েছে মাহাজির। তবে মাহাজিরে রূপান্তর শুধু ‘ফিসিক্যাল’ অর্থের মাঝেই সীমাবদ্ধ নয়। এর পরের আঘাতটা আসে তার নামের উপর।

কুন্টাকিন্টের মনিব তার নাম বদলে দেয়– কুন্টাকিন্টে থেকে ‘টবি’। মনের প্রচণ্ড দৃঢ়তা দিয়ে, জীবন বাজি রেখে প্রতিহত করে এ নতুন নামকরণের। পারেনি ঠেকাতে। তারপর কেড়ে নেয় তার ভাষা, মান্ডিনকা যোদ্ধাদের মাতৃভাষা। এককথায়, সেদিন তথাকথিত সভ্যসমাজ কেড়ে নেয় ‘their (পশ্চিম আফ্রিকার উপজাতীয়দের) way of life’।

এভাবেই কুন্টাকিন্টের নাম, ভাষা কেড়ে নিয়ে; পূর্বপুরুষের ইতিহাস, কৃষ্টি থেকে বঞ্চিত করে ‘সাইকোলজিক্যাল’ অর্থে রূপান্তর করে মাহাজিরে। যার ইতিহাস নেই, যে সংস্কৃতি শূন্য, তাকে শোষণ করা তো সহজ কাজ।

পাকিস্তান সৃষ্টির শুরুতেই পূর্ব বাংলার জনগোষ্ঠীকে তাদের বর্ণমালা, ভাষা এবং সংস্কৃতি থেকে বঞ্চিত করে ‘সাইকোলজিক্যালি’ মাহাজির বানাতে উদ্যত হয় শাসকগোষ্ঠী। ১৯৫১ সালে অন্যান্য রাজনীতিকদের সঙ্গে বঙ্গবন্ধুও প্রতিবাদ করে মাতৃভাষা রক্ষায়। তাঁর ভূমিকা এখানেই শেষ নয়। মাতৃভূমির নামকরণের সঙ্গে যে ইতিহাস, কৃষ্টি অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত তা তিনি উপলব্ধি করেন পূর্বেই।

বঙ্গবন্ধু তখন পাকিস্তানের গণপরিষদের সদস্য। ২৫ অাগস্ট ১৯৫৫ করাচিতে পাকিস্তানের গণপরিষদে প্রদত্ত ভাষণে স্পিকারকে উদ্দেশ্য করে বলেন:

“Sir, you will see that they want to use the phrase ‘East Pakistan’ instead of ‘East Bengal’…We demanded many times that you should use ‘Bengal’ instead of ‘Pakistan’. The word ‘Bengal’ has a history and tradition of its own…”

বলা বাহুল্য, পশ্চিম পাকিস্তানের কোনো প্রদেশের নাম কিন্তু পরিবর্তন হয়নি কখনও।

এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন বঙ্গবন্ধুর পাকিস্তানের পার্লামেন্টে এই বক্তব্যের প্রায় ৬০ বছর পর পাকিস্তানের এক প্রখ্যাত কলামিস্ট লেখেন:

“…the renaming of ‘East Bengal’ as ‘East Pakistan’ is the most divisive event in the political history of Pakistan and the critical first milestone towards the division of Pakistan.”

(Syed Anwar Mahmud, ১৭ ডিসেম্বর ২০১২, Remembering the breakup of Pakistan, ‘The News International’)

তদানীন্তন পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী বাঙালিকে তাদের বাসভূমি থেকে ‘ফিসিক্যাল’ অর্থে বিতাড়িত করার চেষ্টা করেনি; তারা বাঙালির ভাষা, সংস্কৃতি, ইতিহাস কেড়ে নিয়ে ‘সাইকোলজিক্যালি’ মাহাজিরে পরিণত করার প্রয়াস চালায়। যার ইতিহাস নেই, তার অতীত নেই। যার অতীত নেই, তার পূর্বপুরুষ নেই। নেই পূর্বপুরুষের গল্প বা রূপকথা, হোক তা পরাজিত কিংবা বীরত্বে গাথা। যে জাতি কৃষ্টিতে শূন্য, সে জাতি সৃষ্টিতে অপারগ আজন্ম। এ বিষয়গুলো ভালোই বুঝেছিল তদানীন্তন পাকিস্তানি শাসক। তাই আঘাত আসে ইতিহাস ও কৃষ্টি মুছে দিতে।

সেদিনের ঔপনিবেশিক আমেরিকার তথাকথিত সভ্যসমাজ কুন্টাকিন্টেকে দেশ ও ইতিহাস থেকে বঞ্চিত করে, ধর্ম, নাম ও ভাষা কেড়ে নিয়ে, ‘বিয়িং ইন্‌ক্লুসিভের’ নামে ‘ফিসিক্যাল’ ও ‘সাইকোলজিক্যাল’ উভয় অর্থেই মাহাজিরে পরিণত করে।তদানীন্তন পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী বাঙালির বর্ণমালা আর মাতৃভাষা কেড়ে নিয়ে, মাতৃভূমির নাম পরিবর্তনে ইতিহাস ও সংস্কৃতি থেকে বঞ্চিত করে, ‘বিয়িং ইন্‌ক্লুসিভের’ নামে ‘সাইকোলজিক্যালি’ মাহাজিরে পরিণত করতে প্রয়াস চালায়।

উভয় ক্ষেত্রেই উদ্দেশ্য এক ও অভিন্ন। আর তা হচ্ছে শোষণ। প্রথম ক্ষেত্রে ‘দাসত্ব’ শোষণ, আর দ্বিতীয় ক্ষেত্রে ‘বাজার’ শোষণ। উভয় ক্ষেত্রেই পরিলক্ষিত হয় মনিব সুলভ আচরণ। আজ বিশ্বব্যাপী ধর্মীয় জঙ্গিবাদ মানুষের জীবন আর ধর্মীয় বিশ্বাস কেড়ে নিয়ে ‘বিয়িং ইন্‌ক্লুসিভ’ হওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে।

মানুষ থেকে কেড়ে নিয়ে বা মানুষকে বঞ্চিত করে, আর যাই হোক, ‘ইনক্লুসিভের’ পরিবেশ সৃষ্টি করা সম্ভব নয়। আর জীবন কেড়ে নিলে কার জন্য ‘ইনক্লুসিভ’ হওয়া? বঙ্গবন্ধু ‘ইনক্লুসিভের’ ধারণা ধারণ করেন মানুষকে ভালবাসার মাঝে, যার শক্তি ও দুর্বলতা দুই-ই ছিল মানুষকে ঘিরে। যিনি ‘বিয়িং ইনক্লুসিভের’ ধারণা ধারণ করেন মানুষকে উদারভাবে দেওয়ার মাঝে, যার যার ধর্ম তার তার– উপাসনায়; আনন্দ-উৎসব সবার।

নবজাত সন্তানের আলিঙনে সৃষ্টিকর্তার শ্রেষ্ঠত্ব স্মরণ করে সৃষ্টিকর্তার আশীর্বাদ কামনা হতে পারে যে কোনো ভাষায়, যে কোনো শাস্ত্রে। শুধুমাত্র উদারতা আর প্রদানের মাঝে যে ‘ইনক্লুসিভের’ পরিবেশ সৃষ্টি হয়, সেটাই হয় দীর্ঘস্থায়ী।

সূত্র:
১. Cuban leader Fidel Castro speaking about Mujib during the Non-Aligned Summit held in Algiers in 1973.

২. ‘Roots’, The Saga of an American Family, Alex Healy, 1976

৩. ‘Friends, Not Masters’, Mohammad Ayub Khan, 1967.
৪. Sheikh Mujibur Rahman’s interview with Sir David Frost on the BBC, 1972.

অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নের আরএমআইটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অধ্যাপক 

What's Your Reaction?

like
0
dislike
0
love
0
funny
0
angry
0
sad
0
wow
0