বঙ্গবন্ধু ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ

বঙ্গবন্ধু ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ

আবদুল মান্নান

সব দেশে সবকালে শোষকরা সবসময় ধর্মকে শোষণ ও মানুষের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করার জন্য হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছেন, তা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব জানতেন। বঙ্গবন্ধুর জীবন ও রাজনীতি নিয়ে যারা গবেষণা ও লেখালেখি করেন তারা জানেন যে, তিনি বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সময় পেলেই পড়াশোনা করতেন ও তা তাঁর মনে থাকত এবং বিভিন্ন সভা-সমাবেশে তিনি সেখান থেকে উদ্ৃব্দতি দিতে পারতেন। ধানমন্ডি ৩২ নম্বর বাড়িতে তাঁর নিজস্ব একটি ছোট গ্রন্থাগার ছিল, যা একাত্তরের ২৭ মার্চের পর লুট হয়ে যায়। বঙ্গবন্ধুর জন্মস্থান ছিল ফরিদপুর জেলার গোপালগঞ্জ মহকুমার টুঙ্গিপাড়া গ্রামে। এই অঞ্চলটি মূলত নিম্নবর্গের হিন্দু অধ্যুষিত এলাকা। মুসলমানরাও ছিল অনেকটা সংখ্যালঘু। অধিকাংশ জমির মালিক ছিলেন উচ্চবর্ণের হিন্দু জমিদাররা। যে কয়েক ঘর মুসলমান পরিবারকে মধ্যবিত্ত বলা যেতে পারে, তার মধ্যে শেখ পরিবার অন্যতম। কিশোর মুজিব তাঁর শৈশবকাল থেকেই দেখেছেন তাঁদের এলাকায় ধর্মের নামে কীভাবে সমাজে বিভেদ সৃষ্টি করা হয়। প্রথম দিন স্কুলে গিয়ে তিনি দেখেন, ক্লাসের সামনের সারিতে মুসলমান আর নিম্নবর্গের হিন্দুদের বসা অলিখিতভাবে নিষিদ্ধ। তিনি প্রথা ভেঙে সামনের সারির বেঞ্চে বসে পড়েন। এরপর দীর্ঘদিনের জাত-ধর্মের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা একটি রেওয়াজ ভেঙে যায়। সেই কিশোর বয়স থেকেই শেখ মুজিব ধর্ম ও জাতপাত নিয়ে রাজনীতি করাটাকে অপছন্দ করতেন। তাঁদের পারিবারিক শিক্ষাটাও তেমন ছিল।
গোপালগঞ্জে পড়ালেখার পাট চুকিয়ে ১৯৪৩ সালে তিনি যখন কলকাতায় কলেজে ভর্তি হতে যান, তখন তিনি সেখানেও একই চিত্র দেখেন। এই কাজে বেশ সক্রিয় ছিল হিন্দু মহাসভা আর মুসলিম লীগ। উদ্দেশ্য একটাই, সমাজের মানুষের মধ্যে ভেদাভেদ সৃষ্টি করে নিজেদের ক্ষুদ্র স্বার্থসিদ্ধি করা। ১৯৪৬ সালের কলকাতার হিন্দু-মুসলমান দাঙ্গা তরুণ মুজিবের শুধু সামাজিকই নয়, রাজনৈতিক চিন্তাভাবনাকে প্রভাবান্বিত করে। নেহরু যখন কেবিনেট মিশন পরিকল্পনা বাতিল করে দেন, তখন জিন্নাহর মুসলমানদের জন্য পৃথক আবাসভূমির দাবি পুনরায় মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। জিন্নাহ যতই দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে রাজনীতি করুন না কেন, তাঁর মুসলিম লীগের আসল শক্তি ছিল অবিভক্ত বাংলায়। কারণ এখানেই মুসলমানরা পুরো ভারতবর্ষে সবচেয়ে বেশি পশ্চাৎপদ ছিল। কারণ, এখানে বেশিরভাগ জমির মালিক ছিলেন হিন্দু জমিদাররা আর মুসলমান ও নিম্নবর্গের হিন্দুরা সেখানে ছিল বর্গাচাষি। মুসলমানরা লেখাপড়ায়ও বেশ পিছিয়ে ছিল; যার অন্যতম কারণ ছিল ইংরেজরা, যখন ভারতে ইংরেজি শিক্ষা প্রবর্তন করে, তখন ভারতের মুসলমানরা তা সহজে গ্রহণ করেনি। কিছুটা ব্যতিক্রম ছিল উত্তর ভারত। কারণ, সেখানে স্যার সৈয়দ আহম্মদের মতো মানুষরা মুসলমানদের বোঝাতে কিছুটা হলেও সক্ষম হয়েছিলেন, কেন তাদের ইংরেজি শেখা উচিত। প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়। দুর্ভাগ্য, বাংলায় কোনো স্যার সৈয়দ আহম্মদ ছিলেন না। নেহরুর কেবিনেট মিশন হতে সরে আসার পর জিন্নাহ মুসলমানরা যে নিজেদের জন্য একটি পৃথক আবাসভূমি চায়, তা কংগ্রেসকে বোঝাতে ১৯৪৬ সালের ১৬ আগস্ট ডাইরেক্ট অ্যাকশন ডে ঘোষণা করেন। তিনিসহ মুসলিম লীগের অন্য নেতারা দিনটিকে শান্তিপূর্ণভাবে পালনের জন্য আহ্বান জানান। কিন্তু কংগ্রেস ও হিন্দু মহাসভা প্রচার করে, এটি হচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে মুসলিম লীগের একটি চাল, যা মোটেও সত্য ছিল না বলে ঐতিহাসিকরা মনে করেন। ১৬ আগস্ট আর শান্তিপূর্ণ থাকেনি। কলকাতায় শুরু হয় এক ভ্রাতৃঘাতী সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা। তিন দিন স্থায়ী এই দাঙ্গায় প্রায় ৪০ হাজার নিরীহ মানুষ মারা যায়। এর পর বিহার, নোয়াখালী, উত্তরপ্রদেশ ও পাঞ্জাবেও সীমিত আকারে দাঙ্গা হয়। কলকাতার দাঙ্গার সময় তরুণ শেখ মুজিব তার দলবল নিয়ে উভয় সম্প্রদায়ের মানুষকে সাহায্য করার চেষ্টা করেন। তিনি আশা করেছিলেন, দেশভাগের পর দেশে শান্তি বিঘ্নিত হয় এমন কোনো পরিস্থিতি আর ঘটবে না। কিন্তু তাঁর সে আশা ভঙ্গ হতে বেশি দেরি হয়নি।


১৯৪৮ সালের মার্চ মাসে পাকিস্তানের বড় লাট মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ঢাকায় এসে ঘোষণা করেন, পাকিস্তানের মোট জনসংখ্যার পাঁচ ভাগ মানুষের ভাষা উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা। প্রতিবাদ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। গড়ে ওঠে রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন। পাকিস্তান সরকার এই আন্দোলনকে একটি সাম্প্রদায়িক রূপ দিয়ে বলে, ভারত হতে এসে হিন্দুরা এই আন্দোলনের সূত্রপাত করেছে আর ইন্ধনও দিচ্ছে। পাকিস্তানের ২৩ বছরের শাসনামলে বাঙালি যখনই নিজেদের কোনো দাবি আদায়ে আন্দোলনের সূচনা করেছে, পাকিস্তানি শাসকরা সবসময় 'ইসলাম বিপন্ন' জিগির তুলে সেই আন্দোলন নস্যাৎ করার চেষ্টা করেছে। ১৯৫০ সালে বরিশাল, খুলনা, সিলেট, ঢাকাসহ পূর্ববঙ্গের বিভিন্ন জেলায় সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা হয়েছে হিন্দুদের বিভিন্ন উৎসব বা পালা-পার্বণকে কেন্দ্র করে। সেসব দাঙ্গার মূল কারণ ছিল, দেশভাগের পর হিন্দুদের এ দেশ থেকে বিতাড়িত করে তাদের জায়গাজমি দখল করা। ১৯৬২ সালে যখন শরীফ শিক্ষা কমিশনের বিরুদ্ধে ছাত্রছাত্রীদের আন্দোলন চলছিল, এই আন্দোলনকে বানচাল করার জন্য ১৯৬৪ সালে দেশের বিভিন্ন স্থানে দাঙ্গা বাধানো হয়। এই দাঙ্গা জানুয়ারির প্রথম থেকে মার্চ পর্যন্ত চলে। এই দাঙ্গার সূত্রপাত কাশ্মীরের একটি সংগঠনকে কেন্দ্র করে। কে বা কারা গুজব রটিয়ে দিল, কাশ্মীরের হযরতবাল দরগায় রক্ষিত হজরত মুহাম্মদের (সা.) এক গোছা চুল সেখান থেকে কে বা কারা চুরি করেছে। এর জেরে ভারতের কোনো কোনো স্থানে ও পূর্ববঙ্গেও সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বেধে যায়। তখন ঢাকার বুদ্ধিজীবী সমাজ, প্রগতিশীল রাজনৈতিক কর্মী ও বিভিন্ন দল এই দাঙ্গার বিরুদ্ধে যে আন্দোলনের সূচনা করে, যাতে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগ, শেখ মুজিব ও দলের অন্য কর্মীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ১৯৬৪ সালের ১৭ জানুয়ারি ইত্তেফাক, সংবাদ অভিন্ন শিরোনামে বিশেষ সম্পাদকীয় লেখে- পূর্ব পাকিস্তান রুখিয়া দাঁড়াও। পরদিন ইংরেজি ভাষ্যে প্রকাশ হয় পাকিস্তান অবজারভারে।
সেই শৈশব থেকে বঙ্গবন্ধু সাম্প্রদায়িকতার একটি ভয়াবহ রূপ দেখেছেন এবং এও দেখেছেন, তাতে কীভাবে সাধারণ নিরীহ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ১৯৭০-এর নির্বাচনের প্রাক্কালে তিনি ২৮ অক্টোবর তারিখে বঙ্গবন্ধু রেডিও ও টেলিভিশনে ভাষণ দিতে গিয়ে ১৯৬৬ সালে তাঁর ঘোষিত ৬ দফাকে উল্লেখ করে বলেন- '৬ দফা মুসলিম, হিন্দু, খ্রিষ্টান, বৌদ্ধদের নিয়ে গঠিত বাঙালি জাতির মহিমার আত্মপ্রকাশ আর নির্ভরশীলতা অর্জনের চাবিকাঠি। আমাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার করা হচ্ছে, আমরা ইসলামে বিশ্বাসী নই। আমরা বিশ্বাসী ইনসাফের ইসলামে। আমাদের ইসলাম হজরত মুহাম্মদের (সা.) ইসলাম, যে ইসলাম জগৎবাসীকে শিক্ষা দিয়েছে ন্যায় ও সুবিচারের অমোঘ মন্ত্র। ইসলামের প্রবক্তা সেজে পাকিস্তানের মাটিতে বারবার যারা অন্যায়, অত্যাচার, শোষণ, বঞ্চনা ও পৃষ্ঠপোষকতা করে এসেছেন, আমাদের সংগ্রাম সেই মুনাফেকদের বিরুদ্ধে।'
ইসলামের নামে মানুষ যে শয়তানের চেয়ে খারাপ হতে পারে, তার প্রমাণ মিলেছে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময়। যখন জামায়াতে ইসলামী, মুসলিম লীগ, নেজামে ইসলাম ও ধর্মের লেবাসধারী স্থানীয় কিছু ধর্ম ব্যবসায়ীরা ধর্মকে ব্যবহার করে সাম্প্রদায়িক সম্প্রতি বিনষ্ট করার ঘটনা আর হিন্দু-মুসলমান নির্বিশেষে গণহত্যায় লিপ্ত হওয়া। ১৬ ডিসেম্বরের আগেই মুজিবনগর সরকার এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে দেশে সব ধরনের ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করে, যা ১৯৭২-এর সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। বঙ্গবন্ধু ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি পাকিস্তানের কারাগার থেকে দেশে ফিরে এই প্রজ্ঞাপন অনুমোদন করেন। যেদিন তিনি দেশে ফেরেন, সেদিন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে তিনি যে ভাষণ দেন, সেখানে তিনি বলেন- 'আমি স্পষ্ট ও দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলে দিতে চাই যে, আমাদের দেশ হবে গণতান্ত্রিক, ধর্মনিরপেক্ষ ও সমাজতান্ত্রিক দেশ। এ দেশের কৃষক-শ্রমিক, হিন্দু-মুসলমান সবাই সুখে থাকবে, শান্তিতে থাকবে। ১৯৭২ সালের ৯ মে রাজশাহী মাদ্রাসার ময়দানে বক্তৃতা করতে গিয়ে বলেন, 'আমার এই দেশে সাম্প্রদায়িকতা থাকতে পারবে না। আমরা বাংলাদেশের মানুষ, আমরা বাঙালি আর সাম্প্রদায়িকতা যেন মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে। ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র বাংলাদেশ। মুসলমান তার ধর্মকর্ম করবে। হিন্দু তার ধর্মকর্ম করবে। বৌদ্ধ তার ধর্মকর্ম করবে। কেউ কাউকে বাধা দিতে পারবে না। ইসলামের নামে আর বাংলাদেশের মানুষকে লুট করে খেতে দেওয়া হবে না। পশ্চিমারা ২৩ বৎসর ইসলামী ট্যাবলেট দেখিয়ে আমাদের লুটেছে।'
১৯৭২ সালে সংবিধান যখন রচিত হয়, সেই সংবিধানের যে চারটি মৌলিক স্তম্ভ ছিল, তার একটি ছিল ধর্মনিরপেক্ষতা। বঙ্গবন্ধু যেখানেই যেতেন, তিনি এটির অর্থ যে ধর্মহীনতা নয়, তা বারবার উল্লেখ করতেন এবং বলতেন, ধর্মনিরপেক্ষতা মানে যার যার ধর্ম সে সে পালন করবে। ধর্ম থেকে রাষ্ট্র পৃথক থাকবে। তিনি একটি আধুনিক ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখেছেন চিরকাল। যে আওয়ামী লীগ শুরু হয়েছিল পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগের নাম দিয়ে, অচিরেই সে নাম থেকে মুসলিম শব্দটি উঠিয়ে দিয়েছিলেন; যাতে তার চরিত্র ধর্মনিরপেক্ষ হয়। একই কথা ছাত্রলীগের ক্ষেত্রেও। তবে স্বাধীনতার পরপরই যারা বাংলাদেশ চায়নি, যারা বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরেছে, যারা ধর্মের নামে গণহত্যা করেছে, তারা সেই ধর্মকেই আবার ব্যবহার করার চেষ্টা করেছে। যারা এই চেষ্টা করেছে, তাদের মধ্যে যেমন ছিল ধর্মান্ধ গোষ্ঠী, তেমন ছিল অতি বিপ্লবী বামপন্থিরা। প্রথম দিকে তারা সমবেত হয়েছিলেন মওলানা ভাসানী ন্যাপের পতাকাতলে। তারপর যখন জাসদ গঠিত হয়, তাদের অনেকেই সেখানে আশ্রয় নেন। দেয়ালে উস্কানিমূলক 'হরে কৃষ্ণ হরে রাম জয় বাংলার অপর নাম' স্লোগান লেখা হয় রাতের আঁধারে। শুরুতে মওলানা ভাসানীর সাপ্তাহিক পত্রিকা 'হক কথা' ও এনায়েতুল্লাহ খানের ইংরেজি সাপ্তাহিক 'হলিডে' এই উস্কানিতে ইন্ধন জোগায়। পরে জাসদ গঠিত হলে তাদের দৈনিক পত্রিকা 'গণকণ্ঠ' তাতে শামিল হয়।
১৯৭২ সালের ১৬ জুলাই ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের বার্ষিক অধিবেশনে প্রধান অতিথির ভাষণ দিতে গিয়ে বঙ্গবন্ধু বলেন- 'বিপ্লবের (স্বাধীনতা) পর সংবাদপত্র যে স্বাধীনতা পেয়েছে, তা এ দেশে কখনো ছিল না... আপনারা ধর্মনিরপেক্ষতার কথা বলেন। আমিও বলি। কিন্তু কোনো কোনো খবরের কাগজে এমন কথাও লেখা হয় যে, সাম্প্রদায়িকতা চরমে। অথচ সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে চব্বিশটি বছর প্রগতিশীল সাংবাদিকরা সংগ্রাম করেছেন। কোন কোন
কাগজে লেখা হয়েছে, মুসলমানকে রক্ষা করার জন্য সংঘবদ্ধ হও।'
বঙ্গবন্ধু নিজে ধর্মকর্ম পালনে যত্নশীল ছিলেন। মনে রাখতে হবে, তাঁর পূর্বপুরুষ সুদূর ইরাক থেকে পূর্ব ভারতে এসেছিলেন ইসলাম ধর্ম প্রচার করতে। সারাদেশ যখন জাতির পিতার জন্মের একশ' বছর পালন করছে, তখন এই বিশাল মাপের মানুষটি আমাদের মাঝে নেই। তাঁর স্বপ্নের বাংলাদেশে ঘাতকরা ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট তাঁকে সপরিবারে হত্যা করে অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে নির্বাসনে পাঠিয়েছিল। এই কাজ শুরু করেছিলেন এই দেশে প্রথম সামরিক আইন প্রশাসক ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জেনারেল জিয়া। আর তার অসমাপ্ত কাজটি শেষ করেছেন তার স্ত্রী খালেদা জিয়া। যেদিন তিনি চরম সাম্প্রদায়িক, একাত্তরের ঘাতকদের তার মন্ত্রিপরিষদে ঠাঁই দেন সেদিন। দীর্ঘ ২১ বছর পর বঙ্গবন্ধুর কন্যা ক্ষমতায় এসে পিতার অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করার কাজে হাত দিয়েছেন ঠিক; কিন্তু তিনি কতটুকু সফল হতে পারবেন, তা আগামীতে বলা যাবে। পিতা যে সোনার মানুষগুলোকে নিয়ে রাজনীতি করতেন, কন্যার কাছে তেমন মানুষ তো খুব বেশি দেখা যায় না। জন্মশতবর্ষে বাঙালির একমাত্র মহানায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে অভিবাদন। জয় বাংলা।
১৬ মার্চ ২০২০
সাবেক চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন

What's Your Reaction?

like
0
dislike
0
love
0
funny
0
angry
0
sad
0
wow
0