করোনা মোকাবেলায় প্রয়োজন ব্যক্তিগত সামাজিক দায়িত্ব পালন:মোঃ হাফিজুর রহমান

করোনা মোকাবেলায় প্রয়োজন ব্যক্তিগত সামাজিক দায়িত্ব পালন:মোঃ হাফিজুর রহমান
h

আমরা যা কিছুই করি না কেন আমাদের চারপাশের উপর তার ইতিবাচক বা নেতিবাচক প্রভাব থাকে। ব্যক্তিগত সামাজিক দায়িত্ব বলতে বোঝায় একজন ব্যক্তির ব্যবহার বা কর্মকাণ্ড সমাজের অন্যান্যদের উপরে কিভাবে প্রভাব ফেলে এবং নিজের কাজের জন্য দায়িত্বশীল করা। একজন সামাজিকভাবে দায়িত্ববান ব্যক্তি সবসময় অন্যের উপরে ইতিবাচক প্রভাবের কথা চিন্তা করে। সে সবসময় সমাজে অবদান রাখার মানসিকতা ধারণ করে থাকে। সে সর্বদা খেয়াল রাখে তার সামাজিক ও আর্থিক কর্মকাণ্ডের দ্বারা পরিবেশের উপরে যাতে ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। তিনটি স্তরে সামাজিক দায়িত্ব পালন হয়ে থাকে যথা ব্যক্তিগত, প্রাতিষ্ঠানিক /কর্পোরেট ও সরকারি । তবে সবচেয়ে বেশি তাৎপর্যপূর্ণ হচ্ছে ব্যক্তিগতভাবে সমাজের প্রতি দায়িত্বশীল হওয়া।

আমরা প্রতিনিয়ত বিভিন্ন গণমাধ্যমে দেখতে পাই সহিংসতা, যুদ্ধ, খুন,ধর্ষণ, দুর্নীতি, সড়ক দুর্ঘটনা ইত্যাদি। এই কর্মকাণ্ড গুলোর বেশির ভাগই ঘটে থাকে ব্যক্তি স্বার্থ, ব্যক্তি চাহিদা, ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব, লোভ ইত্যাদির কারণে । করোনা কালীন সময়ে মনে করা হয়েছিল যে এই সমস্ত নেতিবাচক কর্মকাণ্ড কম সংঘটিত হবে। কিন্তু এই ধারণা ভুল প্রমাণ করে দিয়ে কিছু মানুষ নেতিবাচক কর্মকাণ্ড সমানতালে চালিয়ে যাচ্ছে। আসলে এই নেতিবাচক কর্মকান্ড গুলো মানুষের মধ্যে সংক্রমণ হচ্ছে।সমাজের কথা চিন্তা করে এই ধরনের নেতিবাচক কর্মকান্ড পরিহার করা একটি সামাজিক দায়িত্ব। অনেক ক্ষেত্রে ধরে নেওয়া হয় সামাজিক দায়িত্ব শুধু কতিপয় ব্যক্তিবর্গ পালন করবেন যেমন সরকার, জনপ্রতিনিধি,সরকারি কর্মকর্তা ,শিক্ষক, সমাজকর্মী ,সাংবাদিক, শিক্ষিত শ্রেণী। কিন্তু প্রকৃত অর্থে প্রতিটা ব্যক্তির সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা আছে।

তবে উদাহরণ হিসেবে বলা যায় শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার ভিক্ষুক জনাব নাজিম উদ্দিনের কথা। তিনি তার জমানো ১০ হাজার টাকা এই সংকটকালে সরকারি তহবিলে জমা দেন। তিনি সকলের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিলেন প্রত্যেকেই তার নিজের জায়গা থেকে যা কিছু আছে তা নিয়েই সমাজের জন্য কিছু করতে পারেন। একজন ব্যক্তি তার জীবনে অনেক ধরনের ভূমিকা পালন করে থাকে। কখনো সে সন্তান কখনো পিতা বা মাতা, কখনো কোন অফিসের বস ,কখনো কর্মী, কখনো প্রশাসক ইত্যাদি। প্রত্যেকটা জায়গায় তার দায়িত্বের ধরন আলাদা। কিন্তু প্রতিটি জায়গায় তার দায়বদ্ধতার জায়গাটি একই। প্রতিটা ব্যক্তিকে সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সাথে তার কর্ম সম্পাদন করতে হয়। প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্বের বাইরে একজন ব্যক্তি নানান ভাবে প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের জন্য কাজ করে থাকেন। কিছু কাজ করতে একজন ব্যক্তি বাধ্য হন তাই করে থাকেন যেমন বাবা-মা প্রতিটা সন্তানকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠান। সন্তানেরা একপ্রকার পড়তে বাধ্য হয়। আবার এদের মধ্য থেকে অনেকেই পড়াশোনাটাকে নিজের এবং বাবা-মার উপর দায়িত্ব পালন হিসেবে দেখেন। যার ফলাফল হিসেবে তারা ব্যক্তিগতভাবে সফল হয়ে থাকেন। আবার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষকবৃন্দ শ্রেণিকক্ষে পড়াশোনার বাইরে ও ছাত্র-ছাত্রীদের সততা ও মানবিকতার শিক্ষা দেন এবং তাদের কারিকুলাম বহির্ভূত কিছু দক্ষতা বৃদ্ধির চেষ্টা করে থাকেন। এটা তাদের ব্যক্তিগত সামাজিক দায়িত্ব হিসেবেই দেখা যায়। বর্তমান করোনা দুর্যোগের দিকে তাকালে দেখা যায় বিভিন্ন এলাকার যুব সমাজ, সচেতন গোষ্ঠী ব্যক্তিগতভাবে ও সম্মিলিত ভাবে খাদ্য, অর্থ দিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। যেমন ঢাকায় বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন এর কথা বলা যেতে পারে। সারা দেশে গড়ে উঠেছে স্বেচ্ছাসেবী সাহায্য সংগঠন যেমন রাজশাহীতে “মানুষের জন্য করি”, খুলনায় “যুব নাগরিক ফোরাম” এমন হাজারো চোখে পড়ার মতো সংগঠন কাজ করছে বিভিন্ন অঞ্চলে। জাতীয় ক্রিকেট দলের খেলোয়ার মাশরাফি, তামিম, মুশফিক, আশরাফুল, রিয়াদ, সৌম্য সরকার সহ অনেক এগিয়ে এসেছেন মানুষের সহায়তায়। যারা বাইরে যেয়ে সরাসরি কাজ করতে পারছে না তারাও চেষ্টা করছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃস্টি করতে। প্রতিটি প্রচেষ্টাই ব্যক্তিগত সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ।

পেশাজীবীদের দিকে তাকালে দেখা যায় ডাক্তারগণ সম্মুখযোদ্ধা হিসেবে করোনা আক্রান্ত রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। পাশাপাশি অন্যান্য রোগে ভুগতে থাকা রোগীদেরও সেবা দিচ্ছেন। এর বাইরে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে মানুষের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। যেমন বলা যায় edoctors নামে একটি ফেসবুক পেজ রয়েছে যেখানে প্রায় ২০০ জন ডাক্তার ফেসবুক পোষ্ট ও মেসেঞ্জার ব্যবহার করে সেবা দিচ্ছেন।পেজটিতে ইতিমধ্যে এক মাসের মধ্যে ৪০ হাজারের বেশি মানুষ সংযুক্ত হয়েছেন।আবার বঙ্গবন্ধু পরিষদ, ঢাকা মহানগর ৩১ জন ডক্টর কে মানুষের সেবা দেওয়ার জন্য সংযুক্ত করেছেন। যেখানে ডাক্তারদের ফোন করে এবং হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করে রোগীদের সেবা নিতে পারছেন। ইতিমধ্যে গত দুই মাসে প্রায় ১২ হাজার মানুষ এই সেবাটি পেয়েছেন বলে সংগঠনের আহ্বায়ক জানিয়েছেন। আবার অনেক ক্ষেত্রে ভিন্ন চিত্র ও দেখা যাচ্ছে চিকিৎসা ব্যাবস্থায়। কোথাও বেসরকারি হাসপাতাল সমূহ রোগীদের ভর্তি নিচ্ছে না।যেমন একজন গর্ভবতী মা বিভিন্ন হাসপাতালে ঘুরে কোথাও ভর্তি হতে না পেরে রাস্তায় সন্তান প্রসব করেছেন। বিষয়টি মানবিকভাবে চিন্তা করলে খুবই উদ্বেগের বিষয়। এই জায়গা গুলো সংশ্লিষ্টদের ব্যক্তিগত সামাজিক দায়বদ্ধতার জায়গাকে চরমভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

বর্তমান করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় বাংলাদেশ সরকার ইতিমধ্যে ১৯ টি প্রনোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন। এই প্যাকেজ সমুহ বাস্তবায়ন অনেকাংশে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্দশা লাঘব করতে সমর্থ হবে। প্যাকেজ সমুহ বাস্তবায়নে অনেক মানুষের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। সুতরাং সংশ্লিষ্ট সকলের নিষ্ঠা ও সততার সাথে কর্ম সম্পাদন করতে তাদের ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতা রয়েছে। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় এই যে এখন পর্যন্ত ৮৪ জন জনপ্রতিনিধিকে বহিষ্কার করা হয়েছে অসদুপায় অবলম্বনের জন্য । তবে আশাবাদী হওয়ার মত উদাহরণও আছে বেশ কিছু। মাঠ পর্যায়ে ডাক্তার, নার্স, সিভিল প্রশাসন, ব্যাংকার, পুলিশ, সেনাবাহিনী ও আনসার সদস্য গন যেভাবে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন; সাংবাদিকগণ যেভাবে অসংগতি তুলে ধরেছেন তা আমাদেরকে পরিবর্তিত বাংলাদেশের ইঙ্গিত দেয়। বিষয়টিকে শুধুমাত্র পেশাগত দায়িত্ব পালন হিসেবে দেখলে ভুল হবে উপরন্তু এটা কে তাদের দেশ ও সমাজের প্রতি ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতা হিসেবে দেখাই শ্রেয়। উদাহরণ হিসেবে বলা যায় সেনাবাহিনীর “এক মিনিটের বাজার “যেটা দেখার পরে ব্যক্তিগত উদ্যোগে অনেক জায়গায় অনেকেই একই ধরনের উদ্যোগ নিয়েছেন। ব্যাবসায়ীগন ব্যবসা করবেন এটাই স্বাভাবিক। বর্তমান যুগে মুনাফা অর্জন যেমন উদ্দেশ্য ঠিক তেমনি সামাজিক দায়িত্ব পালন কে ও ব্যবসায়ীদের অন্যতম উদ্দেশ্য হিসেবে দেখা হয়।

বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মীদের সার্বিক মঙ্গলের জন্য পদক্ষেপ নেওয়াও প্রতিষ্ঠানের মালিকদের ব্যক্তিগত সামাজিক দায়িত্ব। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী বিশেষ সময়ে মানুষকে বিপদে ফেলে পণ্য সামগ্রীর দাম বৃদ্ধি করে থাকেন। আবার মজুদ করে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে থাকে। এখন বাজারে বেশ কিছু ঔষধের চাহিদা থাকায় সংকট তৈরি করা হচ্ছে এবং সুযোগ বুঝে বেশি দামে বিক্রি করার চেষ্টা চলছে। একটি বিষয় লক্ষ্য করলে দেখা যায় করোনা কাউকেই ছাড় দিচ্ছে না। শীর্ষ ব্যবসায়ী, সরকারি কর্মকর্তা, অধ্যাপক কেউই বাদ যাচ্ছে না করোনার ভয়াবহতা থেকে। টাকা বা ক্ষমতা কোন কিছুর বিনিময় অদৃশ্য শক্তির হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যাচ্ছে না। আমাদের দেশের অনেক ব্যবসায়ী ইচ্ছে করলে পারেন আমাদের দেশের স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ করে দেশের চিকিৎসা সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান করতে। করোনা কালের শিক্ষা নিয়ে তারা হয়তো ভবিষ্যতে মনোযোগ দেবেন বলে আশা করছি। আবার অতি সচেতন কিছু ব্যক্তিবর্গ আছে যারা চাহিদা অনুমান করে বেশি পরিমাণ মজুদ করে থাকে। ফলে বিক্রেতারা বেশি দাম হাঁকানোর সুযোগ পেয়ে যায়। যেমন করোনার শুরুতেই মানুষ চাল মজুদ করা শুরু করলো ফলে বস্তাপ্রতি ২০০ থেকে ৩০০ টাকা বেড়ে গেল। আবার যখনই শোনা গেলো টক খেলে করোনা প্রতিরোধে সহায়ক হবে তখনই লেবু ক্রয় বৃদ্ধি পেল এবং হালিপ্রতি ২০ টাকা থেকে ৫০ টাকা হয়ে গেল। যখনি আদা, এলাচ, দারচিনি, লবঙ্গ কে উপকারী হিসেবে ঘোষণা করলেন তখনই দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেল। সুতরাং দায় শুধু ব্যবসায়ীদের নয় ভোক্তা এবং ব্যবসায়ী উভয়েরই। তাই অধিক ক্রয় বা মূল্যবৃদ্ধির ফলে সমাজের একটি অংশের কি ভোগান্তি হতে পারে তা সবার চিন্তা করা উচিৎ। স্বাস্থ্যবিধি মেনে যানবাহন চলাচল শুরু হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে কোথাও বেশি ভাড়া নেয়া হচ্ছে আবার কোথাও বেশি যাত্রী তোলা হচ্ছে। যানবাহন সংশ্লিষ্ট সকলকে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে। যাত্রীদের মধ্যে অনেকেই আছেন যারা হয়তো কয়েক মাস বেতন পান না অথবা কারো আয়ের উৎস বন্ধ হয়ে আছে । কোথাও কোথাও বাস থেকে চাঁদা আদায় করার খবর পাওয়া যাচ্ছে।যারা এই চাঁদা আদায় করছে তারা কিন্ত বিপদে মানুষের পাশে ছিলেন না।যাত্রীগণেরও দায়িত্ব নিজের ও অন্যের কথা চিন্তা করে শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে বাস,লঞ্চ, ট্রেনে চলাচল করা। মনে রাখতে হবে আপনি শুধু নিজে সংক্রমিত হবেন না আপনি সংক্রমিত করবেন আপনার সংস্পর্শে আসা সবাইকে। আপনি কেন গাদাগাদি করে বাস/লঞ্চে উঠবেন ? যদি সংক্রমিত হন বা ক্ষতিগ্রস্ত হন তাহলে এ দায় কি শুধু পরিবহণ শ্রমিকদের বা সরকারের ? বাসা থেকে বের হওয়ার পরে অনেকের মধ্যেই দেখা যাচ্ছে গ্লাভস, মাস্ক পরতে অনীহা। একজন ব্যক্তি আক্রান্ত হয়ে মারা গেলে এর ফলাফল ভোগ করতে হয় উক্ত ব্যক্তির পরিবারের সদস্যদের। নিজেকে এবং পরিবারের অন্যান্যদের নিরাপদ রাখতে নিরাপদ চলাফেরা ও ভ্রমণ এখন সবচেয়ে বড় সামাজিক দায়িত্ব হয়ে দাড়িয়েছে। করোনা ভাইরাস যেভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করে প্রতিটা গ্রামগঞ্জে বুক ফুলিয়ে ইতিমধ্যে ৫৫ হাজার মানুষকে আক্রান্ত করেছে তার দায় কার? প্রধানমন্ত্রী যেভাবে বারবার ব্যক্তিগত সচেতনতার কথা বলছেন আবার গণমাধ্যমে বিশেষ করে টেলিভিশন, পত্রিকা, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যেভাবে প্রচার প্রচারণা করা হচ্ছে তারপরও আমাদের ব্যক্তিগত সচেতনতা জায়গাটির বড়ই অভাব। এটা প্রতীয়মান যে আমরা সচেতন ভাবেই আমাদের ব্যক্তিগত সামাজিক দায়বদ্ধতা কে এড়িয়ে যাচ্ছি। করোনা ও তার সৃষ্ট প্রভাব থেকে রেহাই পেতে হলে ব্যক্তিগত সামাজিক দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন এর কোন বিকল্প নেই। সাথে সাথে এখান থেকে শিক্ষা নিয়ে ইতিবাচক মনোভাব ধারণ করে আমাদের চারপাশের উপর দায়িত্বশীল হওয়ার এখনই উপযুক্ত সময়।

লেখক: শিক্ষক, মার্কেটিং বিভাগ,বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

Print Friendly, PDF & Email

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ

June 2020
T W T F S S M
« May    
  1
2 3 4 5 6 7 8
9 10 11 12 13 14 15
16 17 18 19 20 21 22
23 24 25 26 27 28 29
30  

ফেসবুক পেজ

What's Your Reaction?

like
0
dislike
0
love
0
funny
0
angry
0
sad
0
wow
0